ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতিতে বিতর্ক তীব্র, মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ
বিচার ব্যবস্থায় কঠোরতার প্রশ্নে বিভক্ত মতামত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দেশটির বিচার বিভাগ এক নীতিগত নথিতে জানিয়েছে, আইনগতভাবে অনুমোদিত মৃত্যুদণ্ডের বিভিন্ন পদ্ধতি পুনরায় কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে বলা হয়েছে, কঠোর শাস্তির মাধ্যমে বিচার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পাশাপাশি গুলি, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা এবং বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহারের মতো পদ্ধতিগুলোকে বৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন ফেডারেল পর্যায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছিল। নতুন প্রশাসন সেই অবস্থান থেকে সরে এসে আবারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ওপর জোর দিচ্ছে।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর শাস্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, গুরুতর অপরাধ দমনে মৃত্যুদণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এই নীতির সমালোচনাও কম নয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মৃত্যুদণ্ডে ভুল রায়ের ঝুঁকি থাকে এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ওপর বেশি প্রয়োগ করা হয়।
তারা আরও সতর্ক করেছেন, একবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ভুল সংশোধনের কোনো সুযোগ থাকে না।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বেশ কিছু ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।
বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে বা কার্যত বন্ধ রেখেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এই শাস্তি নিয়ে নীতিগত অবস্থান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই উদ্যোগ বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার এবং নৈতিকতার প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করবে।
















