ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান পোপ লিও চতুর্দশ আফ্রিকা সফরের শেষ পর্যায়ে এসে নিরক্ষীয় গিনি-এর একটি আলোচিত কারাগার পরিদর্শন করে বন্দিদের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে বিচারব্যবস্থার সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।
বাতা শহরের কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি বলেন, তারা একা নয় এবং ন্যায়বিচারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা। প্রায় ৬০০ বন্দির সামনে তিনি বলেন, সমাজকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বিচারব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা যেন মানবিকতা বজায় রেখে পরিচালিত হয়।
পোপ লিও আরও বলেন, প্রকৃত ন্যায়বিচার শুধু শাস্তি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অপরাধী, ভুক্তভোগী এবং ক্ষতিগ্রস্ত সমাজের পুনর্গঠন নিশ্চিত করাও এর অংশ হওয়া উচিত।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির কারাগারগুলোতে নির্যাতন, অতিরিক্ত ভিড় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগ উঠে আসছে। এসব বিষয় সামনে এনে পোপের এই সফর নতুন করে মানবাধিকার পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
তার আফ্রিকা সফরের সময় তিনি রাজধানীর কাছাকাছি এলাকায় এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যেখানে তিনি স্বাধীনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট তেওদোরো ওবিয়াং এনগুয়েমা ম্বাসোগো-এর শাসনামলেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা অব্যাহত।
পোপ লিও বন্দিদের জন্য শিক্ষা ও কাজের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।
সম্প্রতি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বিদেশ থেকে পাঠানো অভিবাসীদের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে। এসব প্রেক্ষাপটে পোপের এই সফর এবং বক্তব্য দেশটির বিচারব্যবস্থা ও কারাগার সংস্কারের প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে।
















