যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পূর্বাভাসভিত্তিক বাজি প্ল্যাটফর্ম কালশি নিজ নিজ নির্বাচনের ফলাফলের ওপর বাজি ধরার অভিযোগে তিনজন রাজনৈতিক প্রার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব ঘটনা অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবহার করে লেনদেনের শামিল।
কালশি এক বিবৃতিতে জানায়, নতুন নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পর এই অনিয়মগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মতে, প্রচলিত আর্থিক বাজারের মতো এখানেও অসাধু ব্যক্তিরা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে, তাই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
প্রথম ঘটনায় মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের একটি কংগ্রেসনাল আসনের ডেমোক্রেটিক প্রাথমিক নির্বাচনে অংশ নেওয়া এক প্রার্থী নিজের নির্বাচনী ফলাফলের ওপর অল্প পরিমাণ অর্থে বাজি ধরেন। তাকে প্রায় ৫৪০ ডলার জরিমানা করা হয়েছে এবং পাঁচ বছরের জন্য প্ল্যাটফর্ম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ঘটনায় টেক্সাসের একটি রিপাবলিকান প্রাথমিক নির্বাচনের এক প্রার্থী নিজের নির্বাচনের ফল নিয়ে বাজি ধরেন। তাকেও জরিমানা করা হয়েছে এবং একইভাবে পাঁচ বছরের জন্য পাঁচ বছর নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তৃতীয় ঘটনাটি ভার্জিনিয়ার সিনেট নির্বাচনের ডেমোক্রেটিক প্রাথমিককে ঘিরে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থী নিজের প্রার্থিতা সম্পর্কিত দুটি আলাদা ক্ষেত্রে লেনদেন করেন। পরে তিনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তাকে ছয় হাজার ডলারের বেশি জরিমানা এবং পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এই ধরনের প্ল্যাটফর্মে রাজনীতি, অর্থনীতি, ক্রীড়া বা আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি নিয়ে বাজি ধরা যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে, যার মধ্যে পলিমার্কেট অন্যতম।
তবে এর সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণহীনতা ও অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের আগে অস্বাভাবিকভাবে বাজির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস মারফি এবং প্রতিনিধি গ্রেগ কাসার আগেই কঠোর নজরদারির দাবি তুলেছিলেন। তাদের অভিযোগ, সরকারি মহলের গোপন তথ্য ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি বিপুল অর্থ লাভ করেছেন।
বর্তমানে এসব প্ল্যাটফর্ম যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ফিউচার ট্রেডিং কমিশন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলেও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এগুলোকে জুয়ার আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত বিস্তৃত হওয়া এই বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের আর্থিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
















