যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার কয়েকটি মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মুদ্রা বিনিময় সহায়তা বা ‘সোয়াপ লাইন’ চেয়েছে, যাতে ইরান যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা যায়।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে শুনানিতে তিনি বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো একে অপরের মুদ্রা বিনিময় করে বাজারে তারল্য নিশ্চিত করতে পারে, যা অর্থনৈতিক অস্থিরতা কমাতে সহায়ক।
তিনি উল্লেখ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত-সহ একাধিক দেশ এই সুবিধা চেয়েছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রও উপকৃত হবে। যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে সব দেশের নাম প্রকাশ করেননি, তবে বলেন এশিয়ার কয়েকটি মিত্র দেশও একই অনুরোধ জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এমন একটি প্রস্তাব বিবেচনার কথা জানিয়েছেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ডলার বাজারে বিশৃঙ্খলা ঠেকানো।
তবে এই প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন অভিযোগ করেছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে এবং জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
তিনি আরও দাবি করেন, ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে আমিরাতের আর্থিক সম্পর্ক এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বেসেন্ট এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের কোনো যোগসূত্র নেই।
অতীতে যুক্তরাষ্ট্র আর্জেন্টিনা-কে ২০ বিলিয়ন ডলারের সোয়াপ সুবিধা দিয়েছিল, যা দেশটির মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের সোয়াপ লাইন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আস্থার বার্তা দিতে পারে, তবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্কের কারণে এটি বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
















