দীর্ঘ টানাপোড়েনের পরে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও চীনা নরিনকোর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ১,৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির একটি ইউনিট চালু করে জাতীয় গ্রিডে ৫০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। ফলে দেশব্যাপী চলমান বিদ্যুৎ সংকটের কিছুটা হলেও সমাধানের পাশাপাশি বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনে ভোল্টেজ সমস্যারও কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ পাওয়ার প্ল্যান্টটির দুটি ইউনিট চালু করা সম্ভব হলে এখান থেকে পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতায় ১,৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল মহল।
এ পাওয়ার প্ল্যান্টটি থেকে পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রতিদিন ১২ হাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে প্ল্যান্টটিতে ১২ লাখ টন কয়লার মজুত গড়ে তোলার পাশাপাশি আরও সাড়ে ৩ লাখ টন কয়লা পাইপলাইনে রয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি আরও ১৫ লাখ টনের মতো কয়লা আমদানির চুক্তি প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বর্তমানে প্ল্যান্টটিতে মজুত ৫ মাসের কয়লাসহ খুব শীঘ্রই পুরো এক বছরের মজুত গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।
ফলে আগামী মাসের প্রথমভাগেই প্ল্যান্টটির দুটি ইউনিটই পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে আসলে জাতীয় গ্রিডে ১,৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে বলেও আশা করছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল মহল।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের শেষভাগে খেপুপাড়ার ধানখালীর কাছে এ পাওয়ার প্ল্যান্টটির নির্মাণ কাজ শুরু হলেও করোনা মহামারীর কারণে প্রায় দু বছর কাজের গতি অনেকটাই শ্লথ হয়ে যায়। ২০২২-এর শেষভাগে পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু করে ২০২৪-এর শেষভাগে উৎপাদনের জন্য প্ল্যান্টটি প্রস্তুত হলেও কয়লা আমদানি বিঘ্নিত হওয়া সহ নানা জটিলতায় উৎপাদন শুরু হয়নি।
তবে সব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ এ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি শেষ পর্যন্ত উৎপাদনে আসায় জাতীয় গ্রিডে বাড়তি বিদ্যুৎ যোগ হলো।
উল্লেখ্য, ২.৪০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এ পাওয়ার প্ল্যান্টটির জন্য চীন সরকার ৭০ ভাগ ঋণ প্রদান করেছে। অবশিষ্ট ৩০ ভাগ প্রকল্প ব্যয়ের অর্ধেক টাকা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান ‘রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড-আরপিসিএল’ এবং বাকি অর্ধেক চীনা প্রতিষ্ঠান ‘নরিনকো’ প্রদানের শর্তে যৌথ মালিকানায় এ পাওয়ার প্ল্যান্টটি নির্মিত হয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এ পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে চুক্তিমূল্যে বিদ্যুৎ কিনে পিজিসিবির সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির কাছে বিক্রি করবে বলে জানা গেছে।
খুব শীঘ্রই এ পাওয়ার প্ল্যান্টটির মালিকানা কোম্পানির সাথে পিডিবির বিদ্যুৎ ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনেরও কথা রয়েছে।
















