দীর্ঘ ১৩৭ বছর পর অবশেষে জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিক পাথরের তৈরি প্রতীকী পাখিগুলো নিজ দেশে ফিরে এসেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট এমারসন মানাঙ্গাগওয়া এই ঘটনাকে জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক ফিরে পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জিম্বাবুয়ের জাতীয় পতাকা, মুদ্রা ও প্রতীকচিহ্নে ব্যবহৃত এই পাখির ভাস্কর্য বহু বছর আগে উপনিবেশিক শাসকদের দ্বারা দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ যে পাখিটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে, সেটি প্রতিবেশী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, উনিশ শতকের শেষ দিকে ইউরোপীয় উপনিবেশবাদীরা জিম্বাবুয়ের প্রাচীন নগরী গ্রেট জিম্বাবুয়ে থেকে এসব ভাস্কর্য নিয়ে যায়। পরে এগুলোর কিছু অংশ বিভিন্ন দেশে বিক্রি বা প্রদর্শনের জন্য পাঠানো হয়।
এই ভাস্কর্যগুলোর পাশাপাশি উপনিবেশিক সময় গবেষণার নামে তুলে নেওয়া মানবদেহের অবশিষ্টাংশও ফেরত দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো একসময় ভুল বৈজ্ঞানিক ধারণার ভিত্তিতে সংগ্রহ করা হয়েছিল, যা আজ মানবিক ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
জিম্বাবুয়ের জন্য এই প্রত্যাবর্তন শুধু ঐতিহাসিক নয়, সাংস্কৃতিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে তাদের ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনগুলো ফেরত আনার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দাবি জানিয়ে আসছিল।
এই পাথরের পাখিগুলো মধ্যযুগীয় সময়ের নিদর্শন, যা ১১শ থেকে ১৫শ শতকের মধ্যে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়। গবেষকদের মতে, এগুলো সম্ভবত শোনা জনগোষ্ঠীর পূর্বপুরুষদের তৈরি এবং দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করে আসছে।
জিম্বাবুয়ে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই এসব নিদর্শন ফেরত আনার উদ্যোগ শুরু করে। ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশ থেকে কিছু নিদর্শন ফিরে এলেও সর্বশেষ পাখিটি ফেরত পাওয়া ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বহু বছর ধরে আলোচনা ও আইনি জটিলতার পর অবশেষে এই পাখিটি দেশে ফিরেছে। বর্তমানে এটি অন্যান্য ভাস্কর্যের সঙ্গে সংরক্ষণের জন্য জাদুঘরে রাখা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রত্যাবর্তন উপনিবেশিক ইতিহাসের ক্ষত নিরাময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক উদাহরণ।
















