Dhaka ০১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

কম খরচে দেশ ভ্রমণের দারুণ কিছু কার্যকরী কৌশল

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:২৩:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩০ বার দেখা হয়েছে

সঠিক পরিকল্পনা, অফ-সিজন নির্বাচন এবং যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ায় একটু বুদ্ধি খাটালেই সীমিত বাজেটে উপভোগ করা সম্ভব চমৎকার সব ভ্রমণ।

ভ্রমণ মানেই যে অনেক টাকার ধাক্কা, বিলাসবহুল হোটেল বা দামি গাড়ি—এমন ধারণা এখন অনেকটাই সেকেলে। প্রচুর টাকা খরচ না করেও বাংলাদেশের অপরূপ সৌন্দর্য দারুণভাবে উপভোগ করা সম্ভব। শুধু প্রয়োজন একটু সঠিক পরিকল্পনা এবং খরচের খাতগুলো সম্পর্কে সচেতনতা। বুদ্ধিমান ভ্রমণপিপাসুরা তাই কেবল গন্তব্যই ঠিক করেন না, কোথায় কীভাবে খরচ কমানো যায়, তারও একটি হিসাব কষে নেন।

কম বাজেটে ভ্রমণের সবচেয়ে বড় শর্ত হলো আগে থেকে পরিকল্পনা করা। হঠাৎ করে টিকিট কাটা বা গন্তব্যে গিয়ে হোটেল খুঁজতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই খরচ অনেক বেড়ে যায়। তাই যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও ঘোরার সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব আগে থেকেই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

সাশ্রয়ী যাতায়াত ও গন্তব্য বাছাইয়ের মাধ্যমে ভ্রমণের খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। কেবল কক্সবাজার বা কুয়াকাটার মতো জনপ্রিয় জায়গার বাইরেও দেশের নদী, হাওর, চর বা পাহাড়ের মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থানগুলো স্বল্প বাজেটের গন্তব্য হতে পারে। কাছাকাছি জেলা বা উপজেলায় ঘুরতে গেলে যাতায়াত খরচ কমে। এছাড়া সবচেয়ে দামি পরিবহনের বদলে ট্রেন, বাস বা স্থানীয় সাশ্রয়ী মাধ্যমগুলো বেছে নিলে বাজেট নিয়ন্ত্রণে থাকে।

খরচ কমাতে অফ-সিজনে ভ্রমণের বিকল্প নেই। ছুটির দিন বা উৎসবের সময় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় থাকে এবং থাকা-খাওয়ার খরচও বাড়ে। তাই সপ্তাহের মাঝামাঝি বা কম ব্যস্ত সময়ে ভ্রমণ করলে হোটেলে ছাড় পাওয়ার পাশাপাশি দরদামের সুযোগ থাকে। তবে পাহাড়, হাওর বা সমুদ্রে যাওয়ার আগে আবহাওয়া, নিরাপত্তা ও যাতায়াত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবশ্যই খোঁজ নেওয়া উচিত।

ভ্রমণের বাজেটের বড় অংশই যায় থাকার জায়গার পেছনে। শুধু সুন্দর ছবি দেখে দামি হোটেল বুক না করে, ওই এলাকার বিভিন্ন গেস্টহাউস বা সাশ্রয়ী আবাসনগুলো যাচাই করে দেখা উচিত। দলবেঁধে গেলে রুম শেয়ার করার মাধ্যমে মাথাপিছু খরচ কমানো যায়। তবে বুকিংয়ের আগে অবশ্যই জায়গার পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও কোনো লুকানো চার্জ আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে।

খাবারের ক্ষেত্রে দামি রেস্তোরাঁর বদলে স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় সাধারণ হোটেলগুলো বেছে নিলে কম খরচে ভালো মানের খাবার পাওয়া যায়। তবে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি সারা দিনের জন্য সঙ্গে পানির বোতল ও হালকা শুকনো খাবার রাখলে বাড়তি খরচ বাঁচে। তবে যত্রতত্র প্লাস্টিক বা ময়লা না ফেলে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে পর্যটকদের দায়িত্বশীল হতে হবে।

ভ্রমণে গিয়ে স্মারক বা স্থানীয় পণ্য কেনার শখ থাকে অনেকেরই, তবে অপরিকল্পিত কেনাকাটা করলে বাজেটে টান পড়তে পারে। তাই কী কিনবেন তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন এবং প্রয়োজনীয় দেশি হস্তশিল্প বা খাবারকে প্রাধান্য দিন।

এছাড়া জরুরি প্রয়োজনের জন্য বাজেটের বাইরে কিছু টাকা আলাদা করে রাখা অত্যন্ত জরুরি। পুরো টাকা খরচ করে ফেললে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতিতে বিপদে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

কম খরচে ভ্রমণের মূল রহস্য কৃপণতা নয়, বরং অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে চলা। সঠিক গন্তব্য, সময়, পরিবহন ও থাকার জায়গা বেছে নেওয়ার মাধ্যমেই সীমিত বাজেটের ভ্রমণকে দারুণ উপভোগ্য করে তোলা সম্ভব।

সূত্র: মিডিয়াম, ভ্রমণ গাইড

জনপ্রিয়

পোশাক খাতের শ্রমিক আন্দোলনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতার প্রমাণ মিলল

কম খরচে দেশ ভ্রমণের দারুণ কিছু কার্যকরী কৌশল

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:২৩:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সঠিক পরিকল্পনা, অফ-সিজন নির্বাচন এবং যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ায় একটু বুদ্ধি খাটালেই সীমিত বাজেটে উপভোগ করা সম্ভব চমৎকার সব ভ্রমণ।

ভ্রমণ মানেই যে অনেক টাকার ধাক্কা, বিলাসবহুল হোটেল বা দামি গাড়ি—এমন ধারণা এখন অনেকটাই সেকেলে। প্রচুর টাকা খরচ না করেও বাংলাদেশের অপরূপ সৌন্দর্য দারুণভাবে উপভোগ করা সম্ভব। শুধু প্রয়োজন একটু সঠিক পরিকল্পনা এবং খরচের খাতগুলো সম্পর্কে সচেতনতা। বুদ্ধিমান ভ্রমণপিপাসুরা তাই কেবল গন্তব্যই ঠিক করেন না, কোথায় কীভাবে খরচ কমানো যায়, তারও একটি হিসাব কষে নেন।

কম বাজেটে ভ্রমণের সবচেয়ে বড় শর্ত হলো আগে থেকে পরিকল্পনা করা। হঠাৎ করে টিকিট কাটা বা গন্তব্যে গিয়ে হোটেল খুঁজতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই খরচ অনেক বেড়ে যায়। তাই যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও ঘোরার সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব আগে থেকেই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

সাশ্রয়ী যাতায়াত ও গন্তব্য বাছাইয়ের মাধ্যমে ভ্রমণের খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। কেবল কক্সবাজার বা কুয়াকাটার মতো জনপ্রিয় জায়গার বাইরেও দেশের নদী, হাওর, চর বা পাহাড়ের মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থানগুলো স্বল্প বাজেটের গন্তব্য হতে পারে। কাছাকাছি জেলা বা উপজেলায় ঘুরতে গেলে যাতায়াত খরচ কমে। এছাড়া সবচেয়ে দামি পরিবহনের বদলে ট্রেন, বাস বা স্থানীয় সাশ্রয়ী মাধ্যমগুলো বেছে নিলে বাজেট নিয়ন্ত্রণে থাকে।

খরচ কমাতে অফ-সিজনে ভ্রমণের বিকল্প নেই। ছুটির দিন বা উৎসবের সময় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় থাকে এবং থাকা-খাওয়ার খরচও বাড়ে। তাই সপ্তাহের মাঝামাঝি বা কম ব্যস্ত সময়ে ভ্রমণ করলে হোটেলে ছাড় পাওয়ার পাশাপাশি দরদামের সুযোগ থাকে। তবে পাহাড়, হাওর বা সমুদ্রে যাওয়ার আগে আবহাওয়া, নিরাপত্তা ও যাতায়াত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবশ্যই খোঁজ নেওয়া উচিত।

ভ্রমণের বাজেটের বড় অংশই যায় থাকার জায়গার পেছনে। শুধু সুন্দর ছবি দেখে দামি হোটেল বুক না করে, ওই এলাকার বিভিন্ন গেস্টহাউস বা সাশ্রয়ী আবাসনগুলো যাচাই করে দেখা উচিত। দলবেঁধে গেলে রুম শেয়ার করার মাধ্যমে মাথাপিছু খরচ কমানো যায়। তবে বুকিংয়ের আগে অবশ্যই জায়গার পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও কোনো লুকানো চার্জ আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে।

খাবারের ক্ষেত্রে দামি রেস্তোরাঁর বদলে স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় সাধারণ হোটেলগুলো বেছে নিলে কম খরচে ভালো মানের খাবার পাওয়া যায়। তবে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি সারা দিনের জন্য সঙ্গে পানির বোতল ও হালকা শুকনো খাবার রাখলে বাড়তি খরচ বাঁচে। তবে যত্রতত্র প্লাস্টিক বা ময়লা না ফেলে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে পর্যটকদের দায়িত্বশীল হতে হবে।

ভ্রমণে গিয়ে স্মারক বা স্থানীয় পণ্য কেনার শখ থাকে অনেকেরই, তবে অপরিকল্পিত কেনাকাটা করলে বাজেটে টান পড়তে পারে। তাই কী কিনবেন তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন এবং প্রয়োজনীয় দেশি হস্তশিল্প বা খাবারকে প্রাধান্য দিন।

এছাড়া জরুরি প্রয়োজনের জন্য বাজেটের বাইরে কিছু টাকা আলাদা করে রাখা অত্যন্ত জরুরি। পুরো টাকা খরচ করে ফেললে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতিতে বিপদে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

কম খরচে ভ্রমণের মূল রহস্য কৃপণতা নয়, বরং অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে চলা। সঠিক গন্তব্য, সময়, পরিবহন ও থাকার জায়গা বেছে নেওয়ার মাধ্যমেই সীমিত বাজেটের ভ্রমণকে দারুণ উপভোগ্য করে তোলা সম্ভব।

সূত্র: মিডিয়াম, ভ্রমণ গাইড