আবারও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেছেন, পাকিস্তান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রও ৩৩ বছর পর আবার শুরু করতে যাচ্ছে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার প্রক্রিয়া।
ট্রাম্পের এই ঘোষণায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে তীব্র আলোড়ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত চীন ও রাশিয়ার প্রতি এক সরাসরি বার্তা। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই দেশই উন্নতমানের পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকার হাতে এমন পরমাণু শক্তি আছে যা দিয়ে পৃথিবীকে ১৫০ বার ধ্বংস করা সম্ভব। রাশিয়া দ্বিতীয় স্থানে, আর চীন অনেক পেছনে। কিন্তু তারা দ্রুত এগিয়ে আসছে। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা চাই পৃথিবী নিরাপদ হোক, কিন্তু সবাই যদি পরীক্ষা চালায়, আমরা কেন থেমে থাকব?”
তিনি আরও যোগ করেন, “রাশিয়া আর চীন গোপনে পরীক্ষা চালায়, কিন্তু আমরা স্বচ্ছ সমাজে বাস করি। আমাদের রিপোর্টাররা লিখবে, তাই আমরা লুকাই না। আমরা খোলাখুলি বলি। উত্তর কোরিয়া পরীক্ষা চালাচ্ছে, পাকিস্তানও তাই করছে।”
ট্রাম্পের এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার পথে ছিলেন। তার আগেই পেন্টাগনকে নির্দেশ দেওয়া হয় অবিলম্বে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি পুনরায় শুরু করতে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ‘পোসাইডন’ নামের উন্নত পারমাণবিক সক্ষম ড্রোনের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে চীনও দ্রুত হারে নতুন অস্ত্র তৈরি করছে বলে পশ্চিমা গোয়েন্দারা জানিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া আর চীন পরীক্ষা করছে, কিন্তু তা গোপন। আমরা ভিন্ন। আমরা খোলাখুলি কথা বলি। আমরা পরীক্ষা চালাব, কারণ তারা চালাচ্ছে।”
তার এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এটি কেবল শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং নতুন এক পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সূচনা।
বিশ্ব এখন যেন নিঃশ্বাস ফেলে তাকিয়ে আছে— পুনরায় কি ঠান্ডা যুদ্ধের ছায়া নামছে পৃথিবীর বুকে?
















