ঢাকা: বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যেকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয় নিয়ে সোমবার (৩ নভেম্বর) তুর্কি পার্লামেন্ট সদস্য মেহমেত আকিফ ইয়িলমাজের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
তুর্কিয়ে-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ইয়িলমাজ এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান ও রোহিঙ্গা সংকট
অধ্যাপক ইউনূস তুর্কি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ উন্নত বাজারে রপ্তানির জন্য একটি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে সক্ষম। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক সংকট তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অবিচার ও দুর্ভোগ ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, “রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের দুরবস্থা আমাদের সময়ের অন্যতম করুণ মানবিক সংকট। তারা শুধু মুসলমান বলেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার এবং তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”
তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আট বছর ধরে আশ্রয় শিবিরে থাকার কারণে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ সুযোগ একেবারেই সীমিত হয়ে পড়েছে, যা হতাশা ও অস্থিতিশীলতার জন্ম দিতে পারে।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও মানবিক সহায়তা

- বৈঠকে উভয়পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং মানবিক সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
- মেহমেত আকিফ ইয়িলমাজ দুই দেশের মধ্যেকার গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বিদ্যমান দৃঢ় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেন।
রোহিঙ্গাদের প্রতি তুরস্কের সমর্থন
তুর্কি প্রতিনিধিদলের নেতা ইয়িলমাজ জানান, তাদের প্রতিনিধিদল গতকাল রবিবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছে। সেখানে তারা তুর্কি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, বিশেষ করে তুর্কি ফিল্ড হাসপাতালের মানবিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতি তুরস্কের অবিচল সমর্থনের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এরদোয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং তার স্ত্রীর প্রতি বাংলাদেশের প্রতি তাদের অব্যাহত সহায়তা ও সংহতির জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ তুরস্কের সঙ্গে হাতে হাত রেখে উভয় দেশের জনগণের ভবিষ্যতের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে প্রস্তুত।”
















