উৎসবের উল্লাস: দেবীর আগমনে মাতোয়ারা বাংলাদেশ
বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় আয়োজন **শারদীয় দুর্গাপূজা**

গত সপ্তাহে **মহালয়ার** মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে তার সন্তানদের (লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিক) নিয়ে কৈলাস থেকে পৃথিবীতে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়। হিন্দু বিশ্বাস অনুসারে, দেবী এবার আসছেন **হাতির পিঠে** চড়ে।
দিনে দেবীর মুখ উন্মোচনের মাধ্যমে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। উৎসবের বাকি দিনগুলোতে একে একে পালিত হবে **মহা সপ্তমী, মহা অষ্টমী, ও মহা নবমী**, আর ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর** দিনে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
—
## ভক্তির আলোয় ঝলমলে মণ্ডপ
রাজধানী ঢাকা এখন উৎসবের এক ভিন্ন রূপে সেজে উঠেছে। **ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, রমনা কালী মন্দির** সহ ঢাকা শহর ও এর আশপাশের **২৫৮টি** মণ্ডপ এবং সারা দেশের মোট **৩৩,৩৫৫টি** পূজামণ্ডপ সেজেছে বর্ণিল সাজে। প্রতিটি মণ্ডপে **মহিষাসুরমর্দিনী** দেবী দুর্গার জীবন-আকারের সুনিপুণ ও শৈল্পিক প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে, যা ভক্তদের মনকে মুগ্ধ করছে।
পূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উৎসবের ব্যস্ততা তুঙ্গে।
**বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের** তথ্য মতে, গত বছরের চেয়ে এবার পূজার সংখ্যা বেড়েছে।

## কঠোর নিরাপত্তা ও সরকারি সহায়তা
পূজা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। এ বছর দুর্গাপূজার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার **পাঁচ কোটি টাকা** বরাদ্দ দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে প্রায় **এক লাখ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, ৭০ হাজার পুলিশ, দুই লাখেরও বেশি আনসার** এবং **৪৩২ প্লাটুন বিজিবি** মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও আশ্বস্ত করেছেন যে, ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের দুর্গাপূজা অত্যন্ত আনন্দঘন ও নিরাপদ হবে।
—
















