সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও কৌশলগত চাপে যুক্তরাষ্ট্র, অতীত যুদ্ধের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা
হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রেখে পাল্টা সুবিধা নিচ্ছে ইরান, অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়ছে
ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সংঘাত নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—যুক্তরাষ্ট্র কি আবারও একটি যুদ্ধ হারতে চলেছে? সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
যদিও সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র অনেক এগিয়ে, তবুও কৌশলগত দিক থেকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা ধরে রেখেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব বিস্তার করছে তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের মতোই এবারও একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে জয়লাভ করলেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার ইতিহাস রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়া, পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও পরিণতি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। ফলে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পরিকল্পনার বড় ধরনের ফারাক তৈরি হয়েছে।
ইরান সরাসরি সামরিক সংঘর্ষে জয়ী হওয়ার বদলে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়েছে, যেখানে তারা যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের অভ্যন্তরেও এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত বাড়ছে।
এখন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দুটি পথ—ইরানের শর্ত মেনে সমঝোতায় যাওয়া অথবা সংঘাত আরও বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো পথই সহজ নয় এবং এই যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
















