দেশজুড়ে সৌরবিদ্যুতের দ্রুত বিস্তার জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব আংশিকভাবে ঠেকিয়ে দিচ্ছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, লাখো পরিবার ও কৃষকের জন্য সৌরশক্তি হয়ে উঠেছে নির্ভরযোগ্য বিকল্প
পাকিস্তানে সৌরশক্তির দ্রুত বিস্তার দেশটিকে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতজনিত জ্বালানি সংকটের বড় অংশ থেকে রক্ষা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বালুচিস্তানের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক করিম বখশ আগে জমিতে সেচ দিতে ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভর করতেন। কিন্তু জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় সেই পদ্ধতি চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পরে তিনি ঋণ নিয়ে সৌর প্যানেল স্থাপন করেন, যা এখন তার কৃষিকাজে স্থায়ী সমাধান এনে দিয়েছে।
বর্তমানে সূর্যের আলো থাকলেই তার সেচ পাম্প চালু থাকে, ফলে ডিজেলের দাম বাড়া বা সরবরাহ সংকট তার কাজে আর তেমন প্রভাব ফেলছে না।
ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়েছে। পাকিস্তানের প্রায় ৮০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে আসে, ফলে দেশটি বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশজুড়ে ছাদ ও কৃষিজমিতে সৌর প্যানেল ব্যবহারের ব্যাপক বিস্তার পরিস্থিতি কিছুটা বদলে দিয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির মোট জ্বালানি ব্যবস্থায় সৌরশক্তির অংশ বেড়ে ৩২ শতাংশের বেশি হয়েছে।
গবেষণা বলছে, সৌরবিদ্যুতের কারণে পাকিস্তান ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করতে পেরেছে। একই সঙ্গে এটি বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করছে।
শহরাঞ্চলে অনেক পরিবার সৌর প্যানেল স্থাপন করে নিজেদের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাচ্ছে, এমনকি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে আয়ও করছে। গ্রামাঞ্চলে এটি হয়ে উঠেছে জীবনধারণের গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
তবে এই পরিবর্তনের সুবিধা সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। সৌর প্যানেল স্থাপনের প্রাথমিক খরচ বেশি হওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষ এখনও পিছিয়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এতে দুই ধরনের জ্বালানি ব্যবস্থার সৃষ্টি হতে পারে—একটি সৌরশক্তি ব্যবহারকারীদের জন্য এবং অন্যটি সাধারণ গ্রিডনির্ভর মানুষের জন্য।
অন্যদিকে, পাকিস্তানে ব্যবহৃত অধিকাংশ সৌর প্যানেল বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়, বিশেষ করে চীন থেকে। ফলে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমলেও প্রযুক্তিগত নির্ভরতা বাড়ছে।
সরকার সৌরশক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করলেও পরবর্তীতে আর্থিক চাপের কারণে কিছু ক্ষেত্রে সেই নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সৌরশক্তির প্রসার পাকিস্তানকে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের ধাক্কা থেকে আংশিক সুরক্ষা দিচ্ছে, বিশেষ করে কৃষক ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
















