যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে পাকিস্তান দুই ধাপের একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনা চালালেও ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে না।
পাকিস্তানের উদ্যোগে প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এরপর ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতার কাঠামো চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই প্রস্তাবের আওতায় একটি বিস্তৃত চুক্তি হতে পারে, যেখানে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার প্রতিশ্রুতি দেবে এবং এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও জব্দ সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এই উদ্যোগে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে এবং দেশটির সামরিক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
তবে ইরান জানিয়েছে, তারা এখনো প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে এবং কোনো ধরনের সময়সীমা বা চাপের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে না। পাশাপাশি তারা অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী খুলতে রাজি নয় বলেও স্পষ্ট করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান আশঙ্কা করছে, কোনো সমঝোতায় গেলেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাবকে ইরান ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল, যা আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
হরমুজ প্রণালী বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে এটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে বড় প্রভাব পড়ছে।
চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের প্রস্তাব শান্তির একটি সম্ভাবনা তৈরি করলেও বাস্তবে তা সফল করতে হলে পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি দূর করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
















