যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে চাপ বাড়াতে জাতিগত বিভাজনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকলেও বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল বাস্তবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের কুর্দি, বালুচ ও আরব সংখ্যালঘুদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ থাকলেও তা বৃহৎ আকারে বিদ্রোহে রূপ নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে ইরানের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এ ধরনের কৌশল আগে সফল হয়নি। ১৯৮০ সালে ইরানে হামলার সময় ইরাকের নেতা সাদ্দাম হোসেনও একইভাবে জাতিগত বিদ্রোহ উসকে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তা বড় ধরনের গণআন্দোলনে রূপ নেয়নি।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রও একই ধরনের গোপন তৎপরতার মাধ্যমে ইরানে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সামাজিক কাঠামো অত্যন্ত জটিল, যেখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী আংশিকভাবে রাষ্ট্রের মূল কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। ফলে শুধু বিভাজন উসকে দিয়ে বড় ধরনের বিদ্রোহ সৃষ্টি করা কঠিন।
এছাড়া বর্তমান যুদ্ধে ইরান মূলত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নির্ভর লড়াই করছে, যেখানে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ সামরিকভাবে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না।
আঞ্চলিক রাজনীতিও এই কৌশলের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো নিজেদের ভেতরেও জাতিগত সমস্যার কারণে এমন উদ্যোগকে সমর্থন দিতে অনিচ্ছুক।
ইরাকও এ ধরনের তৎপরতার ঝুঁকি নিতে চাইবে না, কারণ এতে ইরানের প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের ধারণা, জাতিগত বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে ইরানকে দুর্বল করার পরিকল্পনা কাগজে-কলমে আকর্ষণীয় হলেও বাস্তবে তা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
















