ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে একটি যুদ্ধক্ষমতা (War Powers) প্রস্তাব পাস করেছে মার্কিন সিনেট। মঙ্গলবার ৫০-৪৮ ভোটে গৃহীত এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
প্রস্তাবটি এর আগে প্রতিনিধি পরিষদেও পাস হয়েছিল, ফলে এটিই প্রথম যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত উদ্যোগ যা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের অনুমোদন পেল। তবে এটি আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেটো দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও চারজন রিপাবলিকান সদস্য দলীয় অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। অধিকাংশ ডেমোক্র্যাটও এতে সমর্থন জানান।
ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের ইরান নীতিকে “ঐতিহাসিক ভুল” আখ্যা দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশৃঙ্খলা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। অন্যদিকে রিপাবলিকান বিরোধীরা যুক্তি দেন, এমন প্রস্তাব চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাকে দুর্বল করতে পারে এবং তেহরানকে আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ দিতে পারে।
ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই কংগ্রেসে ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক চলছে। বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটের এই ভোট ট্রাম্পের সামরিক নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
















