গাম্বিয়ার উপকূলীয় একটি ছোট্ট গ্রাম ঘানা টাউন, যেখানে কয়েক দশক ধরে বসবাস করলেও শত শত মানুষ এখনো রাষ্ট্রহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। জন্ম, বেড়ে ওঠা—সবই এই দেশে, কিন্তু তাদের কাছে নেই কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র, নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট।
গ্রামটির প্রায় ৯০০ বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ৮৫০ জনেরই কোনো সরকারি কাগজপত্র নেই। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরি কিংবা ব্যাংকিং—প্রায় সব মৌলিক অধিকার থেকেই তারা বঞ্চিত।
এই গ্রামের ইতিহাস শুরু হয় ১৯৫০-এর দশকে, যখন ঘানার কয়েকজন জেলে এসে এখানে বসতি গড়েন। সময়ের সঙ্গে তাদের পরিবার বড় হয়েছে, নতুন প্রজন্ম জন্ম নিয়েছে। কিন্তু আইনগত জটিলতায় তারা আজও নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি।
গাম্বিয়ার আইনে নাগরিকত্ব নির্ভর করে বংশপরিচয়ের ওপর। অর্থাৎ, বাবা বা মা গাম্বিয়ান না হলে, দেশে জন্মালেও নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই সমস্যায় আটকে আছে।
বাসিন্দাদের একজন মারি মেনসাহ জানান, তার সন্তানদের সরকারি স্কুলে ভর্তি নেওয়া হয় না পরিচয়পত্র না থাকায়। বাধ্য হয়ে তিনি ব্যয়বহুল বেসরকারি স্কুলে পড়াচ্ছেন।
একইভাবে অনেকেই ব্যবসা নিবন্ধন করতে পারেন না, ব্যাংক হিসাব খুলতে পারেন না, এমনকি নিয়মিত চাকরিও করতে পারেন না। অনেক ক্ষেত্রে তারা অন্যের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করতে বাধ্য হন।
কিছু বাসিন্দা জানিয়েছেন, পরিচয়পত্র না থাকায় মাঝে মাঝে তাদের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ বা আটক হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
২০১৪ সালে সাময়িকভাবে কিছু মানুষ পরিচয়পত্র পেলেও পরে তা নবায়ন করা হয়নি, ফলে আবারও তারা কাগজপত্রহীন হয়ে পড়েন।
এই সংকটের কারণে অনেক তরুণের স্বপ্ন থমকে গেছে। কেউ বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েও পাসপোর্ট না থাকায় যেতে পারেননি।
মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং আইনগত সীমাবদ্ধতার ফল, যা সংশোধন করা জরুরি।
তাদের মতে, জন্মসূত্রে রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়া শিশুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা, জন্ম নিবন্ধন জোরদার এবং সহজ প্রক্রিয়ায় পরিচয়পত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারি পর্যায়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে অগ্রগতি ধীরগতির।
ঘানা টাউনের বাসিন্দাদের জন্য নাগরিকত্ব কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়—এটি তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। শিক্ষা, কাজ, ভ্রমণ—সবকিছুই নির্ভর করছে একটি কাগজের ওপর।
তাদের দাবি একটাই—বিশেষ সুবিধা নয়, শুধু স্বীকৃতি।
















