ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। রাজধানী সানায় বসবাসকারী মানুষজন আশঙ্কা করছেন, এর ফলে আবারও বিমান হামলা, জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিতে পারে।
সানার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, সামান্য আয়ে তিনি কোনোভাবে পরিবার চালাচ্ছেন। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যদি বাজারে অস্থিরতা বাড়ে, তাহলে তার মতো অনেকেই বড় ধরনের সংকটে পড়বেন। তার মতে, হুথিদের এই যুদ্ধে জড়ানো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সম্প্রতি হুথি গোষ্ঠী ইসরায়েলের দিকে হামলার দাবি করার পর থেকেই আশঙ্কা বেড়েছে যে, ইসরায়েল পাল্টা আঘাত হানতে পারে। এর আগে ইয়েমেনে একাধিকবার হামলার অভিজ্ঞতা থাকায় সাধারণ মানুষ নতুন করে সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন।
সানার এক ট্যাক্সিচালক বলেন, আগের হামলাগুলোর স্মৃতি এখনো তাকে তাড়া করে বেড়ায়। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে কোনো স্থানই নিরাপদ মনে হয় না এবং মানুষ সম্পূর্ণ অসুরক্ষিত হয়ে পড়ে। তিনি নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং প্রয়োজনে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথাও ভাবছেন।
শুধু নিরাপত্তা নয়, আবাসন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। অনেক বাড়ির মালিক এখন ভাড়াটিয়া বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে উঠেছেন। কারণ অতীতে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হন।
অন্যদিকে কিছু মানুষ এখনো হুথি নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের যুদ্ধ সত্ত্বেও তারা প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত এবং বর্তমান পরিস্থিতিকেও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ইয়েমেন যদি এই আঞ্চলিক সংঘাতের নতুন ক্ষেত্র হয়ে ওঠে, তাহলে দেশটির অর্থনীতি আরও বিপর্যস্ত হবে। সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হলে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের দাম বেড়ে যাবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলবে।
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোও ব্যাহত হতে পারে। এতে ইতোমধ্যেই সংকটাপন্ন মানবিক পরিস্থিতি আরও গভীর হবে।
সব মিলিয়ে, হুথিদের এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন করে অনিশ্চয়তা, ভয় ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে।















