মানব মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক গড়তে যাচ্ছে নাসার আর্টেমিস টু মিশন। এই অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা পৃথিবী থেকে মানুষের সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রমের নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন, যা আগে অ্যাপোলো তেরো মিশনের মাধ্যমে স্থাপিত হয়েছিল।
আর্টেমিস কর্মসূচি মূলত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য বহু বছর পর আবার মানুষকে চাঁদে পাঠানো, সেখানে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের পথ তৈরি করা।
এই কর্মসূচির প্রথম ধাপ আর্টেমিস এক ছিল মানববিহীন পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন, যা সফলভাবে মহাকাশযানের বিভিন্ন সক্ষমতা যাচাই করে। এর পরবর্তী ধাপ হিসেবে আর্টেমিস টু প্রথম মানববাহী অভিযান, যেখানে চারজন নভোচারী অংশ নিয়েছেন।
এই অভিযানে নভোচারীরা ওরায়ন মহাকাশযানে করে চাঁদের চারপাশে ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। পুরো যাত্রাপথে তারা মহাকাশযানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, জীবনধারণ প্রযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নেভিগেশন পরীক্ষা করবেন। পাশাপাশি মহাকাশে মানবদেহের ওপর প্রভাব এবং চাঁদের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক বিষয়ও পর্যবেক্ষণ করবেন।
অভিযানের সময় তোলা ছবিগুলোও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে। ইতোমধ্যে মহাকাশ থেকে পৃথিবীর একটি ছবি তোলা হয়েছে, যেখানে অরোরার আলো এবং বিভিন্ন মহাদেশের রাতের আলোকচ্ছটা দেখা গেছে।
নভোচারীদের জন্য নির্ধারিত খাবারের তালিকায় রয়েছে সংরক্ষণযোগ্য বিভিন্ন খাবার, যা মহাকাশে সহজে ব্যবহারযোগ্য। যেহেতু মহাকাশযানে নতুন করে খাদ্য সরবরাহের সুযোগ নেই, তাই আগে থেকেই প্রস্তুতকৃত খাদ্যই ব্যবহার করা হচ্ছে।
চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী গড় দূরত্ব প্রায় তিন লাখ চুরাশি হাজার কিলোমিটার। আকারের দিক থেকেও পৃথিবী চাঁদের তুলনায় অনেক বড়। চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর তুলনায় অনেক কম হওয়ায় সেখানে মানুষের ওজনও কম অনুভূত হয়।
১৯৬০ থেকে ১৯৭০-এর দশকে পরিচালিত অ্যাপোলো কর্মসূচির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মানুষ চাঁদে পা রাখে। এখন পর্যন্ত মোট ১২ জন নভোচারী চাঁদের মাটিতে হেঁটেছেন, যার সর্বশেষ ঘটনা ঘটে ১৯৭২ সালে।
বর্তমানে আবার চাঁদে ফিরে যাওয়ার পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ও কৌশলগত লক্ষ্য। বিশেষ করে চাঁদের দক্ষিণ মেরু এলাকায় বরফের অস্তিত্ব ভবিষ্যৎ গবেষণা ও বসতি স্থাপনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। পাশাপাশি মহাকাশ প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব ধরে রাখাও একটি বড় কারণ।
আগামী বছরগুলোতে আর্টেমিস তিন, চার ও পাঁচ মিশনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে চাঁদে অবতরণ এবং স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, আর্টেমিস টু শুধু একটি মহাকাশ অভিযান নয়, বরং এটি মানবজাতির মহাকাশ অনুসন্ধানের নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।















