যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে চলমান বিক্ষোভের সময় কুর্দি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের কাছে গোপনে অস্ত্র পাঠানোর চেষ্টা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সংশ্লিষ্ট কুর্দি গোষ্ঠীগুলো এই দাবি সরাসরি নাকচ করেছে।
ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বিক্ষোভকারীদের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তার ধারণা কুর্দিরা সেই অস্ত্র নিজেদের কাছেই রেখে দিয়েছে। তার এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এর আগে জানুয়ারিতে ইরানে বড় ধরনের বিক্ষোভ দেখা দেয়, যা মূলত অর্থনৈতিক সংকট ও দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞাজনিত চাপের কারণে শুরু হয়। সেই সময় থেকেই ইরান অভিযোগ করে আসছিল যে বিদেশি শক্তি এই বিক্ষোভকে উসকে দিয়েছে।
তবে ইরানের কুর্দি বিরোধী দলগুলো ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। এক কুর্দি নেতা বলেন, তাদের কাছে কোনো ধরনের অস্ত্র দেওয়া হয়নি এবং তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। অন্য একটি গোষ্ঠীও জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের কাছ থেকে একটি গুলিও পায়নি।
বিক্ষোভ চলাকালে নিহতের সংখ্যা নিয়েও ভিন্নমত রয়েছে। ইরান সরকার কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা দাবি করেছেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরানের সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করতে পারে যে বিদেশি শক্তি দেশটিতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, কুর্দি গোষ্ঠীগুলো বলছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ইরান সরকারের বিরোধিতা করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা সশস্ত্র সংঘাতের পথে নয়, বরং রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে রয়েছে।
সার্বিকভাবে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং ইরান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।















