ঢাকা, ০২ নভেম্বর, ২০২৫
শ্রীলঙ্কায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ করতে যাওয়া ৩০ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের একটি দলের মধ্যে ২২ জনকে গতকাল শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে দিয়েছে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)-এর অর্থায়নে পরিচালিত চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিসিইসিসি) একটি নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করার উদ্দেশ্যে শ্রমিকেরা ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে চেন্নাই হয়ে শ্রীলঙ্কা যাচ্ছিলেন।
আটকের কারণ: কর্তৃপক্ষের ভিন্ন মত
২২ জন শ্রমিকের যাত্রা বাতিল হওয়ার ঘটনায় ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে:
- ইমিগ্রেশনের ভাষ্য (পুলিশ স্পেশাল ব্রাঞ্চ):
- স্পেশাল ব্রাঞ্চের একজন কর্মকর্তা জানান, আটকে দেওয়া শ্রমিকদের ভিসায় স্পষ্ট করে ‘নো ওয়ার্ক পারমিট’ (কাজের অনুমতি নেই) লেখা ছিল। বৈধ কাজের অনুমতি না থাকায় তাদের শ্রীলঙ্কা যাত্রা বাতিল করা হয়।
- নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ (সিসিইসিসি):
- সিসিইসিসি-এর রিক্রুটমেন্ট প্রতিনিধি মাহবুব আলম এই পদক্ষেপকে ‘হয়রানি’ বলে অভিযোগ করেন।
- তিনি দাবি করেন, শ্রমিকদের কাছে বিএমইটি সার্টিফিকেট এবং উভয় দেশের দূতাবাস থেকে প্রাপ্ত অনাপত্তিপত্র (এনওসি) সহ সকল বৈধ কাগজপত্র ছিল।
- তাঁর অভিযোগ, একই ডকুমেন্ট নিয়ে বাকি আটজন শ্রমিক যেতে পারলেও ২২ জনকে থামানো হয়েছে।
- আটকে পড়া শ্রমিকদের এখন স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান কার্যালয় থেকে ছাড়পত্র আনতে বলা হয়েছে, যা শ্রমিকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে।
কেন এই অসঙ্গতি?
এডিবি-এর মতো আন্তর্জাতিকভাবে অর্থায়নকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের ভিসায় কেন ‘নো ওয়ার্ক পারমিট’ উল্লেখ করা হলো এবং এই বিষয়ে কেন দুই পক্ষের তথ্যে এত বড় ফারাক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনা বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রক্রিয়া এবং ভিসা যাচাই-বাছাইয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
















