Dhaka ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে কমেছে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড়

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৩২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৬ বার দেখা হয়েছে

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত হালনাগাদ সাময়িক প্রতিবেদনে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বৈদেশিক সহায়তার ক্ষেত্রে একটি সংকোচনমূলক চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের এই সূচনালগ্নে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। আলোচ্য দুই মাসে মোট ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলারের বৈদেশিক সহায়তা ছাড় হয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ছাড়ের পরিমাণ ছিল ৭৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৪৫ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। এই ছাড়কৃত অর্থের সিংহভাগই প্রকল্প ঋণ হিসেবে এসেছে, যার মধ্যে অনুদান ছিল মাত্র ৩১ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং খাদ্য সহায়তা হিসেবে কোনো অর্থ ছাড় হয়নি।

অর্থছাড়ের পাশাপাশি নতুন বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিতেও কোনো বিশেষ গতি লক্ষ্য করা যায়নি। জুলাই-আগস্ট সময়ে সবমিলিয়ে ২৪ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে অনুদান ৯ কোটি ৭১ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং প্রকল্প ঋণ ১৪ কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে নতুন বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ছিল ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। ফলে নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়ার ক্ষেত্রেও সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, যা সামগ্রিক বৈদেশিক অর্থায়নের প্রবাহকে মন্থর করে তুলেছে।

নতুন ঋণের অর্থছাড় ও প্রতিশ্রুতি কমলেও পূর্বের নেওয়া বৈদেশিক ঋণ ও তার সুদ পরিশোধের পুঞ্জীভূত চাপ ঠিকই বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশ তার আগের নেওয়া বৈদেশিক ঋণ বাবদ মোট ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকার সমান। গত অর্থবছরের একই সময়ে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ৬৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার বা প্রায় ৮ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রথম দুই মাসেই বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বাবদ ব্যয় ৩ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ডলার বা প্রায় ৪৯৫ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইআরডির হিসাব অনুযায়ী, জুলাই-আগস্ট সময়ে পরিশোধিত মোট বৈদেশিক ঋণের মধ্যে মূল ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ৫১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যার দেশীয় মুদ্রা প্রায় ৬ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে, শুধুমাত্র বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরের শুরুতে একদিকে নতুন বৈদেশিক অর্থায়নের প্রবাহ ও প্রতিশ্রুতির গতি শ্লথ রয়েছে, অন্যদিকে পুরোনো ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের বহুমুখী চাপে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে কমেছে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড়

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৩২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত হালনাগাদ সাময়িক প্রতিবেদনে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বৈদেশিক সহায়তার ক্ষেত্রে একটি সংকোচনমূলক চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের এই সূচনালগ্নে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। আলোচ্য দুই মাসে মোট ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলারের বৈদেশিক সহায়তা ছাড় হয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ছাড়ের পরিমাণ ছিল ৭৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৪৫ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। এই ছাড়কৃত অর্থের সিংহভাগই প্রকল্প ঋণ হিসেবে এসেছে, যার মধ্যে অনুদান ছিল মাত্র ৩১ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং খাদ্য সহায়তা হিসেবে কোনো অর্থ ছাড় হয়নি।

অর্থছাড়ের পাশাপাশি নতুন বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিতেও কোনো বিশেষ গতি লক্ষ্য করা যায়নি। জুলাই-আগস্ট সময়ে সবমিলিয়ে ২৪ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে অনুদান ৯ কোটি ৭১ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং প্রকল্প ঋণ ১৪ কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে নতুন বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ছিল ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। ফলে নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়ার ক্ষেত্রেও সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, যা সামগ্রিক বৈদেশিক অর্থায়নের প্রবাহকে মন্থর করে তুলেছে।

নতুন ঋণের অর্থছাড় ও প্রতিশ্রুতি কমলেও পূর্বের নেওয়া বৈদেশিক ঋণ ও তার সুদ পরিশোধের পুঞ্জীভূত চাপ ঠিকই বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশ তার আগের নেওয়া বৈদেশিক ঋণ বাবদ মোট ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকার সমান। গত অর্থবছরের একই সময়ে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ৬৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার বা প্রায় ৮ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রথম দুই মাসেই বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বাবদ ব্যয় ৩ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ডলার বা প্রায় ৪৯৫ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইআরডির হিসাব অনুযায়ী, জুলাই-আগস্ট সময়ে পরিশোধিত মোট বৈদেশিক ঋণের মধ্যে মূল ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ৫১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যার দেশীয় মুদ্রা প্রায় ৬ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে, শুধুমাত্র বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরের শুরুতে একদিকে নতুন বৈদেশিক অর্থায়নের প্রবাহ ও প্রতিশ্রুতির গতি শ্লথ রয়েছে, অন্যদিকে পুরোনো ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের বহুমুখী চাপে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।