ইরান ঘোষণা দিয়েছে যে, ইরাকের জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করার ইঙ্গিত হিসেবে এ ঘোষণা এসেছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক কমান্ড জানায়, ইরাকের ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে না। তবে শত্রু দেশগুলোর ক্ষেত্রে আগের মতোই নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।
বিবৃতিতে ইরাকের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রাম প্রশংসার যোগ্য।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে চুক্তিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরান ট্রাম্পের এই হুমকিকে প্রত্যাখ্যান করে একে অযৌক্তিক ও ভারসাম্যহীন বলে উল্লেখ করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা নৌযান চলাচল বাড়লেও তা এখনও স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় ৯০ শতাংশের বেশি কম রয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে গত সপ্তাহে ৫৩টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৯ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে ইরাকের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেয়েছে, কারণ তাদের অধিকাংশ রাজস্ব তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশটি বড় ধরনের চাপে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে আংশিক ছাড় দিলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থির রয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত আছে।
















