যুক্তরাষ্ট্র থেকে একদল অভিবাসীকে উগান্ডায় পাঠানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশটির আইনজীবী সংগঠনগুলো। তারা এই পদক্ষেপকে “মানবাধিকারবিরোধী” ও “আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করেছে।
উগান্ডা ল সোসাইটি এবং পূর্ব আফ্রিকা ল সোসাইটি জানিয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। তাদের দাবি, এই ধরনের বহিষ্কার প্রক্রিয়া অমানবিক, অপমানজনক এবং আইনের দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ।
খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ১২ জন ব্যক্তি ইতোমধ্যে এন্তেব্বে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতির অংশ, যেখানে অভিবাসীদের এমন তৃতীয় দেশে পাঠানো হচ্ছে, যেসব দেশের সঙ্গে তাদের কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই।
আইনজীবীরা বলছেন, এটি শুধু একটি বহিষ্কারের ঘটনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দমনমূলক নীতির অংশ। তারা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে এমন চুক্তি করেছে, যার মাধ্যমে তারা অভিবাসীদের সেখানে পাঠাচ্ছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ঘানা, রুয়ান্ডা, এসওয়াতিনি ও দক্ষিণ সুদান।
এদিকে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, এসব দেশে পাঠানো অভিবাসীদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কারণ উগান্ডার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও অতীতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, উগান্ডা ইতোমধ্যে প্রায় ১৭ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা মানুষও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাজনীতিবিদও এই নীতির সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, বিদেশি সরকারগুলোকে অর্থ দিয়ে অভিবাসী গ্রহণ করানো হচ্ছে, যা করদাতাদের অর্থের অপচয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বলছে, তাদের আইন অনুযায়ী নিরাপদ তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানো বৈধ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতি আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
















