ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করলেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া প্রায় ২০ মিনিটের ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য প্রায় অর্জনের পথে এবং যুদ্ধ আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ চলতে পারে। তবে ভাষণে নতুন কোনো দিকনির্দেশনা বা সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়নি।
ট্রাম্প আগের মতোই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য একটি ‘বিনিয়োগ’ হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু যুদ্ধের শেষ কোথায় বা কীভাবে তা শেষ হবে—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি।
এদিকে যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল এখনও ইরানে হামলা চালাচ্ছে এবং পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ছে। ট্রাম্পের ঘোষিত সময়সীমার সঙ্গে ইসরায়েল একমত কি না, তা নিয়েও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র যে ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব ইরানের কাছে দিয়েছিল, সেটির বিষয়ে ভাষণে কোনো উল্লেখ ছিল না। এতে করে ওই প্রস্তাব এখনো কার্যকর আছে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়েও ট্রাম্প পরিষ্কার অবস্থান দেননি। একদিকে তিনি ইরানকে নৌপথ খুলে দিতে বলছেন, অন্যদিকে মিত্র দেশগুলোকেই উদ্যোগ নিতে বলছেন। পরে আবার বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে প্রণালী স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে।
এই পরিস্থিতি জ্বালানির বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, কারণ হরমুজ প্রণালী বিশ্বে তেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট।
মার্কিন সেনাদের ভূমিকা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হলেও তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব কী হবে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ভাষণের পরও যুদ্ধের লক্ষ্য, কৌশল এবং সম্ভাব্য সমাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে এবং জনসমর্থনও কমছে, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন চাপ তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এই যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, তবে এখনো তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে পারেননি।
















