বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ছয় ধাপে ৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করেছে। সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমান।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মিয়ানমার প্রায় ৩ লাখ ৫৪ হাজার রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই করেছে। এর মধ্যে ২ লাখ ৫৩ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে মিয়ানমারের পূর্ববর্তী বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, মিয়ানমারের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এখনই প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব নয়। নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।
সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হচ্ছে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে কূটনৈতিক, আইনি ও মানবিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে প্রত্যাবাসনকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান গণহত্যা সংক্রান্ত মামলার বিষয়েও তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ এই মামলায় আর্থিক ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদেও আলোচিত হচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ একটি বিশেষ আলোচনার আয়োজন করেছে, যেখানে মানবাধিকার, প্রত্যাবাসনের চ্যালেঞ্জ এবং জবাবদিহিতার বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
এদিকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। সরকার মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।
















