ভারতের আসাম রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই পরিবর্তনের ফলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
নতুন হিসাব অনুযায়ী, আগে যেখানে ১২৬টি আসনের মধ্যে প্রায় ৩৫টিতে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল, এখন সেই সংখ্যা কমে প্রায় ২০-এ নেমে এসেছে। ফলে অনেক এলাকায় মুসলিম প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা আগের তুলনায় কমে গেছে।
স্থানীয়দের মতে, নতুনভাবে সীমানা নির্ধারণের ফলে বিভিন্ন এলাকার ভোটার কাঠামো বদলে গেছে। মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোকে ভেঙে একাধিক আসনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, আবার কিছু জায়গায় হিন্দু ভোটারদের একত্র করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে আগের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় মুসলিম ভোটের প্রভাব কমিয়ে আনা হয়েছে। কোথাও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা একত্র করে কম সংখ্যক আসনে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, আবার কোথাও তাদের বিভক্ত করে প্রভাব হ্রাস করা হয়েছে।
এর প্রভাব ইতোমধ্যেই প্রার্থিতা বাছাইয়ে দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে বিভিন্ন দল মুসলিম প্রার্থী দিত, এখন অনেক আসনে সব বড় দলই হিন্দু প্রার্থী দিচ্ছে। এতে মুসলিম ভোটারদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
অনেক ভোটার মনে করছেন, তাদের ভোটের গুরুত্ব আগের মতো নেই এবং তাদের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ কমে গেছে। কেউ কেউ বলছেন, এই পরিবর্তনের ফলে তাদের কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে পড়ছে।
তবে শাসক দল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এতে কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই।
উল্লেখ্য, আসামে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বেশি। দীর্ঘদিন ধরে এই রাজ্যে অভিবাসন ও পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়েছে। নতুন সীমানা নির্ধারণ সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
আগামী ৯ এপ্রিলের নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ইস্যু এখন আসামের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
















