ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আসন্ন ইস্টার উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে রাশিয়ার কাছে পৌঁছে দিতে চান। চলমান অচলাবস্থার মধ্যে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বুচা হত্যাকাণ্ডের চতুর্থ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলেনস্কি বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাব তুলে ধরবেন এবং তাদের মাধ্যমে রাশিয়ার কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানাবেন। তিনি জানান, ইউক্রেন ইস্টার সময়ে যুদ্ধবিরতিতে রাজি, তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদার সঙ্গে আপস করা হবে না।
এই প্রস্তাবের আওতায় মূলত জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে হামলা বন্ধ করে, তাহলে ইউক্রেনও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুস্পষ্ট যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তারা দেখেননি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য কিয়েভকেই উদ্যোগ নিতে হবে।
এদিকে ইউক্রেনের কিছু মিত্র দেশ দীর্ঘপাল্লার হামলা কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ায় এই চাপ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিকসহ কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কিয়েভ সফর করেছেন এবং ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে হাঙ্গেরির আপত্তির কারণে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা আটকে গেছে।
এ বছর যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও এখনো কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি। পূর্ব ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে মতবিরোধই মূল বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
রাশিয়া ডনবাস অঞ্চলের একটি বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়, যা ইউক্রেনের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কিয়েভ তা মেনে নিতে রাজি নয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সামনে এলেও তা বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নির্ভর করছে দুই পক্ষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার কার্যকারিতার ওপর।
















