জ্বালানি সংকট ও ব্যাংক বন্ধের অযুহাতে তেল না পাওয়ার তথ্য ভিত্তিহীন; সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি
দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল কৃত্রিম সংকট ও পাম্প বন্ধের গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারি ছুটির সুযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ‘তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে’ কিংবা ‘ব্যাংক বন্ধ থাকায় তেল পাওয়া যাচ্ছে না’ এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন মজুত রয়েছে, তাতে কোনো ধরনের সংকটের ন্যূনতম আশঙ্কা নেই। জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে যারা অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেলের সরবরাহ যেমন নিয়মিত রয়েছে, তেমনি দেশের ভেতরের ডিপোগুলো থেকে পাম্পগুলোতে সরবরাহ প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে তেল সরবরাহের কোনো সাময়িক জটিলতা নেই এবং পাম্প মালিকদের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধর্মঘট বা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
মূলত সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে অতিরিক্ত মুনাফা লোটা কিংবা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করাই এই গুজবের মূল উদ্দেশ্য। রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ স্থানেই সরবরাহ সচল রয়েছে এবং যারা হুজুগে পড়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন, তারাই মূলত পাম্পগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় তৈরি করছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুজব রটনাকারীদের শনাক্ত করতে সাইবার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে পাম্পগুলোতে তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক দণ্ড দেওয়া হবে। জনগণকে উদ্দেশ্য করে প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, কানকথায় কান না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করুন।
সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত রয়েছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটেনি। গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে সাধারণ মানুষ যাতে আতঙ্কিত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
















