ইরানে সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ কিছু মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের জন্য বাড়ানো হলেও দেশের বেশিরভাগ নাগরিক এখনো কার্যত ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে রাজধানী তেহরানে হামলার পরপরই সরকার প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে সংযোগ স্বাভাবিক সময়ের মাত্র দুই শতাংশে নেমে এসেছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
বর্তমানে সরকার নির্ধারিত কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সীমিত ইন্টারনেট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। “ইন্টারনেট প্রো” নামে চালু হওয়া এই সেবার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও অধিকাংশ আন্তর্জাতিক যোগাযোগমাধ্যম এখনো বন্ধ রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন তিনটি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডেটা প্যাকেজ বিক্রি করা হচ্ছে। এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের পরিচয় ও পেশাগত তথ্য জমা দিতে হচ্ছে। ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এর বাইরে আরও একটি বিশেষ সিম ব্যবস্থাও রয়েছে, যা তুলনামূলক কম সীমাবদ্ধ এবং মূলত সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত।
এই ব্যবস্থার ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারে এক ধরনের স্তরভিত্তিক বৈষম্য তৈরি হয়েছে, যেখানে সংযোগ একটি অধিকার নয় বরং বিশেষ সুবিধায় পরিণত হয়েছে বলে সমালোচনা উঠেছে।
দীর্ঘ সময়ের এই ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং বহু মানুষের কাজ ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বিক্রির কালোবাজারও বেড়ে গেছে।
অনেক নাগরিক এই সীমিত ব্যবস্থার বিরোধিতা করে পূর্ণ ইন্টারনেট চালুর দাবি জানিয়েছেন। প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন সংযোগ না থাকায় তাদের কাজ, নিরাপত্তা আপডেট এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে সরকার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয়কৃত প্রযুক্তি ব্যবস্থাও চালু করছে, যার মাধ্যমে দেশের সব অনলাইন যোগাযোগ একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হচ্ছে।
তবে এই কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও অনেক ব্যবহারকারী বিভিন্ন উপায়ে সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের চেষ্টা করছেন, যদিও কর্তৃপক্ষ দ্রুত সেসব পথ বন্ধ করে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে ইন্টারনেট শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
















