কিউবা জানিয়েছে, সম্প্রতি রাজধানী হাভানাতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের আলোচনা ছিল সম্মানজনক ও পেশাদার।
কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আলেহান্দ্রো গার্সিয়া দেল তোরো জানান, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ছিলেন এবং কিউবার পক্ষেও উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তিনি বলেন, কিছু প্রতিবেদনে যেমন বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র কোনো হুমকি বা সময়সীমা দেয়নি। পুরো আলোচনা ছিল শান্ত ও আনুষ্ঠানিক পরিবেশে।
তবে কিউবার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধ প্রত্যাহারকে আলোচনার প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। গার্সিয়া দেল তোরো এই অবরোধকে ‘অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি কিউবার জনগণের ওপর অন্যায্য শাস্তি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিউবাকে তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ সৃষ্টি করছে।
সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা হাভানায় একাধিক বৈঠক করেছেন, যা দীর্ঘ সময় পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগের নতুন প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার কাছে কয়েকটি শর্ত দিয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বন্ধ করা এবং অর্থনীতিতে সংস্কার আনা।
এছাড়া কিউবায় বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া এবং অতীতে বাজেয়াপ্ত সম্পদের ক্ষতিপূরণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে কিউবার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এতে কিউবার জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়ছে। বিভিন্ন দেশের নেতারা কিউবার বর্তমান অবস্থাকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল বলেছেন, প্রয়োজন হলে দেশটি নিজেদের রক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে।
















