বুলগেরিয়ার সাম্প্রতিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভ-এর নেতৃত্বাধীন প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া জোট বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দেশটিতে স্থিতিশীল সরকার গঠনের আশা জোরালো হয়েছে।
নির্বাচনের প্রায় সব ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, রাদেভের দল প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়ে সংসদের ২৪০ আসনের মধ্যে প্রায় ১৩০টি আসন পেতে পারে। গত পাঁচ বছরে আটবার নির্বাচন হওয়া দেশটিতে এই ফলাফলকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাদেভ, যিনি প্রায় এক দশক প্রেসিডেন্ট ছিলেন, সম্প্রতি সেই পদ ছেড়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি দুর্নীতি ও তথাকথিত ‘অলিগার্কিক’ শাসনব্যবস্থা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের সমর্থন অর্জন করেন।
বিদেশনীতি নিয়ে তার অবস্থান নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেন যুদ্ধের সমালোচনা করলেও ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করেছেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন। এ কারণে অনেক সমালোচক তাকে রাশিয়াপন্থী বলে অভিহিত করলেও তিনি নিজেকে বাস্তববাদী হিসেবে তুলে ধরেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু নীতিরও সমালোচনা করেছেন রাদেভ, বিশেষ করে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে। তবে তিনি বলেছেন, বুলগেরিয়া ইউরোপীয় পথেই থাকবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বয়কো বরিসভের দল অনেক পিছিয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবধান পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি।
যদিও রাদেভের দল এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে রয়েছে, তবুও তিনি একটি স্থিতিশীল প্রশাসন নিশ্চিত করতে জোট গঠনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের ফল বুলগেরিয়ার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর নতুন সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনীতি, দুর্নীতি দমন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা।
















