স্কটল্যান্ডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নতুন একটি সংস্থা গঠন করা হয়েছে। দেশটির সরকার মনে করছে, এই প্রযুক্তির বিস্তার ভবিষ্যতে অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে বিপুল অর্থ যোগ হতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত বিকশিত হয়েছে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বেড়েছে। অনুসন্ধান ফলাফলের সারাংশ থেকে শুরু করে মোবাইলের স্বয়ংক্রিয় সংশোধন, ছবি সম্পাদনা কিংবা বার্তা রূপান্তর—সব ক্ষেত্রেই এই প্রযুক্তির প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
সরকারের মতে, জনসেবায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ালে পরিকল্পনা উন্নত করা, খরচ কমানো এবং সেবার গতি বাড়ানো সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে গঠিত সংস্থাটি কৌশল নির্ধারণ এবং স্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশে কাজ করবে।
স্কটল্যান্ডে ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছে এবং নতুন বিনিয়োগও আসছে। একই সঙ্গে বড় আকারের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা এই খাতের বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে।
গবেষণার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে এবং চিকিৎসা খাতে এর ব্যবহার বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় ক্যানসার শনাক্তকরণ আরও কার্যকর করা সম্ভব। এতে রোগ নির্ণয়ের সময় কমে আসছে এবং চিকিৎসকদের কাজের চাপও হ্রাস পাচ্ছে। একই সঙ্গে রোগ শনাক্তের হারও বাড়ছে।
চিকিৎসা ছাড়াও শিক্ষা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও জরুরি সেবায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষকদের প্রশাসনিক কাজ কমে শিক্ষার্থীদের প্রতি বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হবে।
তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। এর ব্যবহার নিয়ে নৈতিক প্রশ্ন, কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব এবং সৃজনশীল খাতে পরিবর্তনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকার এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে এবং কর্মসংস্থান রক্ষায় পরিকল্পনা করছে।
পরিবেশগত দিক থেকেও এই প্রযুক্তি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তথ্য প্রক্রিয়াকরণে বিপুল বিদ্যুৎ ও পানি প্রয়োজন হয়, যা পরিবেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তবে স্কটল্যান্ডের সরকার মনে করছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রাচুর্য এই সমস্যার সমাধানে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি বড় ডেটা কেন্দ্র থেকে উৎপন্ন তাপও বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতোমধ্যে সমাজ ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে। তাই এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারলে দেশটি এর সুফল ভোগ করতে পারবে, অন্যথায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
















