সুদানের দারফুর অঞ্চলের শহর এল-ফাশেরে ভয়াবহ গণহত্যার অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে আরব দেশগুলো। সৌদি আরব, মিসর, কাতার, তুরস্ক ও জর্ডান একযোগে নিন্দা জানিয়েছে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) বিরুদ্ধে, যারা সম্প্রতি শহরটি দখল করেছে।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, আরএসএফের দখলের পর শহরজুড়ে মাটিতে লালচে দাগ, সারি সারি দেহসদৃশ বস্তু এবং রাস্তায় অস্ত্রসজ্জিত ট্রাকের সারি—যেন এক মৃত্যুপুরীর চিত্র।
২০২৩ সাল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলা গৃহযুদ্ধে ইতিমধ্যে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত, নিহত হয়েছে হাজার হাজার। গত সপ্তাহে সেনাদের শেষ দুর্গ এল-ফাশের দখলে নেয় আরএসএফ। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবে, এরপর থেকে অন্তত দুই হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সাহায্য সংস্থাগুলোর ভাষায়—নাগরিকদের ওপর গুলি, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, পালানোর পথে হামলা, এমনকি নারীদের ওপর ভয়াবহ যৌন সহিংসতা চলছে সেখানে।
সৌদি আরব এ ঘটনাকে ‘গভীর মানবাধিকার লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে আহ্বান জানিয়েছে—আরএসএফ যেন অবিলম্বে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করে। মিসর ও কাতার জরুরি মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সুদানের ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই এখন সবচেয়ে জরুরি। তুরস্ক এক বিবৃতিতে বলেছে, “এল-ফাশেরে যা ঘটছে তা এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। নিরপরাধদের রক্তপাত বন্ধ হোক, মানবিক সহায়তার পথ খুলে দেওয়া হোক।” জর্ডানও জানিয়েছে, “এখন restraint দেখানোর সময়, না হলে শহরটা হয়ে উঠবে এক অমানবিক কবরস্থান।”
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “এল-ফাশের পতন যুদ্ধের এক ভয়াবহ মোড়। বিদেশি সামরিক সহায়তা বন্ধ না হলে এই আগুন পুরো সুদানকে গ্রাস করবে।” তিনি ইঙ্গিত দেন, বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপই যুদ্ধবিরতির পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইয়েল স্কুল অব পাবলিক হেলথের হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়, “স্যাটেলাইট চিত্রে স্পষ্ট প্রমাণ মেলে—আরএসএফ বাহিনী গণহত্যায় লিপ্ত। মাটিতে পড়ে থাকা দেহসদৃশ বস্তু, রক্তে রঙিন ধুলা—সবই এক পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞের সাক্ষ্য।”
গবেষক ন্যাথানিয়েল রেমন্ড বলেন, “আমরা এমন নির্মমতা আগে দেখিনি। ৩৬ ঘণ্টা আগেও শহরটা জীবিত ছিল, এখন তা মৃতদেহে ভরা।” তিনি আরও সতর্ক করেন, “এটি কেবল শুরু—দারফুর ও উত্তর কর্ডোফানে এর পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।”
প্রতিবেদনটি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছে—আরএসএফের কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে, যা গণহত্যার সমান। তাদের আহ্বান—“বিশ্ব এখনই পদক্ষেপ নিক, যেন এই হত্যাযজ্ঞ থামে, যেন আর কোনো শহর এল-ফাশেরের মতো রক্তে ভেসে না যায়।”
















