বাংলাদেশের ডিজিটাল যাত্রায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিনেসিস আইটি পিএলসি তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ‘ই-রিটার্ন’-এর জন্য বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এ জয়ী হয়েছে। এই স্বীকৃতি শুধু প্রযুক্তির সাফল্য নয়, বরং কর দাখিল প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও নাগরিক-বান্ধব করে তোলার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক অর্জন।
‘ই-রিটার্ন’ কী এবং কেন এটি বিপ্লবী?
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কর দাখিল প্রক্রিয়া জটিল এবং সময়সাপেক্ষ হিসেবে পরিচিত ছিল। এই সমস্যা নিরসনে সিনেসিস আইটি তৈরি করেছে ‘ই-রিটার্ন’ প্ল্যাটফর্মটি, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং অটোমেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে:
- তাৎক্ষণিক সেবা: মাত্র কয়েক মিনিটে রিটার্ন ফাইলিং, কর দায় হিসাব, উৎস কর দাবি এবং কর প্রমাণপত্র ডাউনলোডের মতো কাজগুলো সম্পন্ন করে।
- সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম: এটি iBAS++, BRTA, ETDS, ও aChallan এর সাথে সংযুক্ত, ফলে করদাতারা একক প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ ও তাৎক্ষণিক সেবা পান।
- স্বচ্ছতা: ডিজিটাল লেজার এবং রিয়েল-টাইম চালান জেনারেশনের মাধ্যমে কর ব্যবস্থায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
সাফল্যের পরিসংখ্যান
‘ই-রিটার্ন’ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের রাজস্ব খাতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন এনেছে (২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত):
| সূচক | অর্জন/পরিবর্তন |
| ব্যবহারকারী | ৩০ লক্ষাধিক |
| জমা পড়া রিটার্ন | ৩২ লক্ষাধিক |
| সহজীকৃত কর প্রদান | ২১২ কোটি টাকা |
| ব্যক্তিগত কর রাজস্ব বৃদ্ধি | ৪ গুণ |
| কর সংগ্রহের খরচ হ্রাস | ১০ গুণ |
| করদাতার পরিধি | উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি |
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও নিরাপত্তা
সিস্টেমটি জাভা, অ্যাঙ্গুলার এবং এসকিউএল সার্ভার-ভিত্তিক আর্কিটেকচারে তৈরি এবং লিনাক্স-ভিত্তিক মাল্টি-ইনস্ট্যান্স ডাটাবেসে পরিচালিত হয়। এটি ISO 27001 এবং ISO 9001 আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে, যা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, গুণমান ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করে।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) ও সিনেসিস আইটি যৌথভাবে ই-রিটার্নকে আরও সহজ করতে কিছু নতুন উদ্যোগ নিয়েছে:
- সহজতর ই-ফাইলিংয়ের জন্য মোবাইল অ্যাপ উন্নয়ন।
- কর্পোরেট কর দাখিলের জন্য ইউনিফাইড প্ল্যাটফর্ম ও ডায়নামিক রিপোর্টিং টুলস।
- নাগরিক সহায়তার জন্য ২৪/৭ সচল কল সেন্টার স্থাপন।
সিনেসিস আইটি’র জাতীয় অবদান
CMMI Level 3 এবং ISO সার্টিফাইড এই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় দুই দশক ধরে দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে কাজ করছে। তারা ই-রিটার্ন ছাড়াও ই-টিন, সিবিভিএমপি, স্বাস্থ্য বাতায়ন সহ ২০০টিরও বেশি জাতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে এবং ৫.৫ কোটিরও বেশি নাগরিককে ডিজিটাল সেবা প্রদান করেছে।
‘ই-রিটার্ন’-এর এই অ্যাওয়ার্ড অর্জন প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাত এখন কেবল বৈশ্বিক মানের নয়, বরং উদ্ভাবনে নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে সক্ষম।
















