ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলার সময় ওয়াশিংটনে নয়, ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতেই অবস্থান করছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস চারটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায় তিনি ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা একটি সুরক্ষিত কক্ষে বসে সামরিক অভিযান তদারকি করছেন।
বিশেষ সুরক্ষিত কক্ষ
মার-আ-লাগোতে একটি উচ্চ-নিরাপত্তা তথ্যকক্ষ রয়েছে—যেখানে গোপন তথ্য নিয়ে আলোচনা করা যায়। প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারে কড়াকড়ি নিয়ম মানা হয়।
পেছনে বড় একটি মানচিত্রে অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান চিহ্নিত ছিল—বিমানবাহী রণতরী, মার্কিন ঘাঁটি এবং ইরানের ভেতরে একাধিক লক্ষ্যবস্তু লাল চিহ্নে দেখানো। আগের সীমিত হামলার তুলনায় এবারের লক্ষ্যবস্তু ছিল অনেক বিস্তৃত।
কারা ছিলেন কক্ষে?
ছবিতে ট্রাম্পের পাশে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যিনি গত কয়েক মাস ধরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন। অভিযানের আগে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের ব্রিফিং দেওয়ার দায়িত্বও ছিল তাঁর।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জন র্যাটক্লিফও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-র অবস্থান নির্ধারণে তাঁর সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
ছবিতে একমাত্র নারী ছিলেন হোয়াইট হাউসের প্রধান কর্মকর্তা সুজি ওয়াইলস—রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভূমিকা না থাকলেও প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতা হিসেবে প্রভাবশালী।
অন্য ছবিতে দেখা যায় মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন একটি বড় পর্দায় আরব সাগরের সামরিক সম্পদের দিকে ইঙ্গিত করছেন। সাধারণত সামরিক পোশাকে দেখা গেলেও তিনি সেদিন ছিলেন সাধারণ পোশাকে।
ওয়াশিংটনে পরিস্থিতিকক্ষ
হোয়াইট হাউসের মূল পরিস্থিতিকক্ষে উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স ভিডিও সংযোগে অভিযানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ডসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
এই পরিস্থিতিকক্ষটি প্রায় ৫,০০০ বর্গফুটের নিরাপদ পরিসর, যেখানে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও শতাধিক কর্মী রয়েছে। ২০২৩ সালে এটি আধুনিকায়ন করা হয়।
অভিযানের পরিণতি
রবিবারের মধ্যে এক হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়—ইরানের কমান্ড কাঠামো, আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর যৌথ সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে।
খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক ও গোয়েন্দা ব্যক্তিত্ব নিহত হন। তবে ইরান দ্রুত পাল্টা হামলা শুরু করে—ইসরায়েল, মার্কিন ঘাঁটি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানে।
পেন্টাগন বলেছে, এটি “অন্তহীন যুদ্ধ” হবে না। কিন্তু সময়সীমা নির্দিষ্ট করা হয়নি। ইরানও অনড় অবস্থানে রয়েছে। ফলে লড়াই এখনো অব্যাহত।
















