যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ হামলা অব্যাহত রাখার মধ্যেই ইরানে ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে—বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরাসরি ইরানি জনগণের উদ্দেশে ফারসি ভাষায় ভাষণ দিয়ে রাস্তায় নেমে সরকার উৎখাতের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ভয়ভীতির শাসনের অবসান ঘটাতে লাখো মানুষকে রাস্তায় নামতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলায় ইরানে ইতোমধ্যে ৫৫৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল প্রকাশ্যে না বললেও তাদের লক্ষ্য শাসন পরিবর্তন। তবে সেই পরিবর্তন কতটা শান্তিপূর্ণ বা স্থিতিশীল হবে, তা নিয়ে ইসরায়েলি নেতৃত্ব খুব বেশি উদ্বিগ্ন নয় বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
লন্ডনের এক গবেষক আহরন ব্রেগম্যান বলেন, ইসরায়েলের অনেক নাগরিক, এমনকি উদারপন্থীরাও বিশ্বাস করেন—ইরানের সরকার পতন হলে মধ্যপ্রাচ্য বদলে যাবে। তবে তিনি এটিকে সরলীকৃত ধারণা বলে মনে করেন।
অন্যদিকে সাবেক ইসরায়েলি উপদেষ্টা ড্যানিয়েল লেভি মনে করেন, ইসরায়েলের প্রকৃত আগ্রহ মসৃণ ক্ষমতা হস্তান্তরে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভাঙনে। তার ভাষায়, ইসরায়েল চায় ইরান ভেতর থেকে ভেঙে পড়ুক। এমন হলে ইরাক ও উপসাগরীয় অঞ্চলেও প্রভাব পড়তে পারে, যা ইসরায়েলের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়াতে সহায়ক হবে।
তবে যুদ্ধ কতদিন চলবে, তা পুরোপুরি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে নয়। দেশটির সামরিক ব্যয়ের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্র বহন করে। যুক্তরাষ্ট্রে এ হামলা তেমন জনপ্রিয় নয়। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলো কতদিন নিজেদের ভূখণ্ডে পাল্টা হামলা সহ্য করবে, সেটিও অনিশ্চিত। আঞ্চলিক কূটনৈতিক চাপ বাড়লে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানও বদলাতে পারে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন বেশ জোরালো। বহু বছর ধরে ইরানকে প্রধান হুমকি হিসেবে তুলে ধরায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সংঘাতকে চূড়ান্ত মোকাবিলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডানপন্থী থেকে মধ্য-বামপন্থী রাজনীতিকরাও হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মিচেল বারাক বলেন, ইসরায়েলিরা মনে করেন ইরানের কাছে অস্ত্র ও ইচ্ছা দুটোই আছে। তাই তারা যুদ্ধকে সমর্থন করছেন এবং বিশ্বাস করেন, এবার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে শেষ হবে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযান ইসরায়েলিদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের ঘোষিত লক্ষ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও বাস্তবে শাসন পরিবর্তনের কৌশলই সামনে এসেছে। তবে এ পরিবর্তন আদৌ ঘটবে কি না, এবং ঘটলেও তা কতটা স্থিতিশীল হবে—তা নির্ভর করছে যুদ্ধের বিস্তার, আন্তর্জাতিক চাপ ও ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর।
















