উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন সাম্প্রতিক দলীয় কংগ্রেসে পারমাণবিক কর্মসূচি সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করেন এবং সিউলকে হুঁশিয়ারি দেন। তবে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন ছিল—তার ১৩ বছর বয়সী কন্যা কি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষিত হবেন? এবার সে ধরনের কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি, কিন্তু বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছে, তাদের মূল্যায়নে কিম জং উন কন্যা কিম জু অ্যেকে উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নিয়েছেন এবং নীতিগত বিষয়ে তার মতামতও নেওয়া হচ্ছে। যদিও রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে তার উপস্থিতি বাড়ছে, তবু তার বয়স ও ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে এখনো রহস্য রয়ে গেছে।
প্রথমবার ২০২২ সালে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাকে দেখা যায়, যখন তিনি বাবার হাত ধরে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরিদর্শনে যান। এরপর বিভিন্ন সামরিক কুচকাওয়াজ ও অস্ত্র প্রদর্শনীতে তাকে কিম জং উনের পাশে দেখা গেছে। কখনো জেনারেলদের তাকে সম্মান জানাতে কিংবা পাশে নত হয়ে কথা বলতে দেখা যায়, যা বিশ্লেষকদের মতে প্রতীকী বার্তা বহন করে।
উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতা ঐতিহ্যগতভাবে কিম পরিবারের হাতেই রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী দেশটি প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুং-এর রক্তধারার উত্তরসূরিরাই শাসন করবেন। সে অর্থে কিম জু অ্যে বৈধ উত্তরাধিকারী হলেও, দেশটির পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারী নেতৃত্ব কতটা গ্রহণযোগ্য হবে তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
সাবেক এক উত্তর কোরীয় কূটনীতিকের মতে, সামরিক নেতৃত্ব হয়তো নারী শাসক মেনে নিতে অনাগ্রহী হতে পারে। দেশটিতে উচ্চপদে নারীর সংখ্যা কম এবং সামরিক বাহিনীতে নারী কমান্ডার আরও বিরল। ফলে কিশোরী কন্যাকে সামনে আনা হয়তো কিম জং উনের কঠোর ভাবমূর্তি নরম করার কৌশলও হতে পারে।
অন্যদিকে কিছু গবেষক বলছেন, নব্বইয়ের দশকের দুর্ভিক্ষের পর থেকে সমাজে নারীর ভূমিকা বদলেছে। অর্থনৈতিক সংকটে পরিবার টিকিয়ে রাখতে নারীরাই ব্যবসা ও অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যে এগিয়ে আসে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশাসনিক ও দলীয় পদেও নারীর উপস্থিতি বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, কিম জং উন হঠাৎ ক্ষমতা পরিবর্তনের ঝুঁকি এড়াতে আগেভাগেই কন্যাকে সামনে আনছেন। অতীতে তিনি নিজেও পিতার মৃত্যুর মাত্র এক বছর আগে প্রকাশ্যে আসেন এবং দ্রুত ক্ষমতায় বসেন। এবার হয়তো ধীরে ধীরে জনমনে উত্তরসূরির গ্রহণযোগ্যতা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
এ সপ্তাহে কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জংকে গুরুত্বপূর্ণ প্রচার দায়িত্বে উন্নীত করা হয়েছে, যা অনেকের মতে ভবিষ্যতে কিম জু অ্যের অভিভাবকসুলভ রাজনৈতিক ভূমিকার ইঙ্গিত হতে পারে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অজানা। কিশোরী কন্যা সত্যিই উত্তরসূরি হবেন কি না, নাকি এটি কৌশলগত প্রচার—তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার উত্তরাধিকার প্রশ্নে জল্পনা-কল্পনাই প্রাধান্য পাচ্ছে।
















