সুইডেনের জলসীমায় ফরাসি বিমানবাহী রণতরী সফরের সময় রুশ জাহাজ থেকে উড্ডয়ন
ঘটনাকে ‘উসকানি’ আখ্যা দিল ফ্রান্স, তদন্ত শুরু
সুইডেনের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, দেশটির জলসীমায় সফররত একটি ফরাসি বিমানবাহী রণতরীর নিকটে যে ড্রোনটি নিষ্ক্রিয় করা হয়, সেটি রাশিয়ার একটি গোয়েন্দা জাহাজ থেকে উড্ডয়ন করেছিল।
ঘটনাটি সুইডেন ও ডেনমার্কের মধ্যবর্তী ওরেসুন্ড প্রণালিতে ঘটে, যখন ফ্রান্সের প্রধান যুদ্ধজাহাজ শার্ল দ্য গোল অঞ্চলটিতে অবস্থান করছিল।
সুইডেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের একটি নৌযান রুশ সংকেত গোয়েন্দা জাহাজ থেকে একটি ড্রোন উড্ডয়নের বিষয়টি শনাক্ত করে। পরে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ড্রোনটি রাশিয়ার জাহাজ ‘ঝিগুলেভস্ক’ থেকে পাঠানো হয়েছিল।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পাল ইয়োনসন বলেন, এটি সুইডেনের প্রবেশবিধি ও আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। সুইডেনের সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে ড্রোনটির কার্যক্রম ব্যাহত করে।
সুইডেনের একটি নৌযান প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে প্রযুক্তিগত উপায়ে ড্রোনটি অকার্যকর করে। পরে সংশ্লিষ্ট রুশ জাহাজকে সুইডেনের সামুদ্রিক সীমানা ছেড়ে বাল্টিক সাগরের দিকে এগিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো রণতরীর ডেকে দাঁড়িয়ে বলেন, রাশিয়ার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলে এটি হবে ‘অর্থহীন উসকানি’। তিনি আরও জানান, ড্রোনটি রণতরী থেকে নিরাপদ দূরত্বে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং জাহাজ বা এর বহরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি।
সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সময় নির্বাচনটি কাকতালীয় নয় বলেই মনে হচ্ছে।
অন্যদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ অভিযোগটিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বাল্টিক সাগর অঞ্চলটি রাশিয়া ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন দেশে ড্রোন উপস্থিতির ঘটনা বাড়ছে, যার জন্য অনেকেই মস্কোকে দায়ী করছে।
















