প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই-সমর্থিত আইনে কর্মঘণ্টা বৃদ্ধি ও ধর্মঘটে নতুন বিধিনিষেধ
সরকার বলছে বিনিয়োগ বাড়বে, শ্রমিক সংগঠনের দাবি—অধিকার খর্ব
আর্জেন্টিনার সিনেট প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সমর্থিত শ্রম সংস্কার আইন অনুমোদন করেছে। নতুন আইনে নিয়োগের বিধি শিথিল করা, কর্মদিবস আট ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে বারো ঘণ্টা পর্যন্ত করার সুযোগ এবং ধর্মঘটের অধিকারে নতুন সীমা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে।
ভোটাভুটিতে ৪২ জন পক্ষে, ২৮ জন বিপক্ষে ভোট দেন এবং দুজন বিরত থাকেন। এটি বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনগত সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারের দাবি, এই সংস্কার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে, উৎপাদনশীলতা বাড়াবে এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত বিপুল জনগোষ্ঠীকে বৈধ কাঠামোর মধ্যে আনতে সহায়ক হবে। নতুন আইনে নিয়োগে কর-প্রণোদনা এবং অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের নিবন্ধনের পথও রাখা হয়েছে।
তবে শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, এটি শ্রমিক সুরক্ষা দুর্বল করবে এবং সহজে ছাঁটাইয়ের পথ খুলে দেবে। জরুরি পরিষেবায় ধর্মঘট চলাকালে ন্যূনতম সেবা চালু রাখার বাধ্যবাধকতাকেও তারা অধিকার খর্ব হিসেবে দেখছে।
গত দুই সপ্তাহে হাজারো মানুষ সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভ করেছে। কয়েকটি সমাবেশে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হলেও সর্বশেষ বিক্ষোভ তুলনামূলক শান্ত ছিল।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, নাগরিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে—প্রায় অর্ধেক সংস্কারের পক্ষে, আর সামান্য কম অংশ এর বিপক্ষে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আইন পাস হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে প্রেসিডেন্টের মুক্তবাজারভিত্তিক বৃহত্তর অর্থনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার মতো রাজনৈতিক সমর্থন রয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বিনিময় হার স্থিতিশীল করা ও মূল্যস্ফীতি কমাতে কিছু সাফল্য দেখিয়েছেন।
তবে কৃচ্ছ্রসাধন নীতির ফলে অনেক নাগরিক অর্থনৈতিক চাপে পড়েছেন, যা এই সংস্কারকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র করেছে।
















