বিদেশি যুদ্ধ এড়ানোর প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও একাধিক দেশে সামরিক অভিযান
ইরান থেকে লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত মার্কিন হামলা
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে অপ্রয়োজনীয় বিদেশি যুদ্ধে জড়াবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি একাধিক দেশে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছেন, যার মধ্যে সরাসরি হামলা ও বিমান অভিযানের ঘটনা রয়েছে।
নিচে দেশভিত্তিক তাঁর সামরিক পদক্ষেপগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এর আগে জুন মাসেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নাতানজ, ফোর্দো ও ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এসব হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এই হামলাগুলোকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা
জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বোমা হামলা চালায় এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যায় বলে জানানো হয়। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ৮৩ জন নিহত হন, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকও ছিলেন।
লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল
মাদক পাচার দমনের নামে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪৫টি নৌযানে হামলা চালিয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের হিসাব। এতে অন্তত ১৫১ জন নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন কয়েকটি অপরাধী গোষ্ঠীকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে এসব হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরে। তবে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এসব পদক্ষেপকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে সমালোচনা করেছেন।
নাইজেরিয়া
সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে নাইজেরিয়ায় বিমান হামলা ও সামরিক সহযোগিতা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে ট্রাম্প সরকার চাপ সৃষ্টি করে। ডিসেম্বরে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তথাকথিত আইএস-সংযুক্ত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হামলার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে ওই অঞ্চলে এমন গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমালিয়া
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সোমালিয়ায় মার্কিন বিমান হামলা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাব ও আইএস শাখার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এক বছরে হামলার সংখ্যা আগের কয়েকটি প্রশাসনের মোট সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ইয়েমেন
মার্চ থেকে মে পর্যন্ত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নৌ ও বিমান হামলা চালানো হয়। লোহিত সাগরে জাহাজে হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র জানায়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করেছে, একটি হামলায় ৮০ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্ত করা উচিত। পরে ওমানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
সিরিয়া
পালমিরা শহরে হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর ডিসেম্বরে সিরিয়ায় আইএস লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। ট্রাম্প বলেন, এটি ছিল কঠোর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ।
ইরাক
আল-আনবার প্রদেশে এক হামলায় আইএসের একজন শীর্ষ কমান্ডার আবদুল্লাহ আবু খাদিজাহ আল-রিফাই নিহত হন বলে জানানো হয়। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনাকে শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন ইরান, ভেনেজুয়েলা, লাতিন আমেরিকার জলসীমা, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সিরিয়া ও ইরাকে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব অভিযান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
















