একাধিক পরোক্ষ আলোচনার পরও তেহরানে যৌথ সামরিক অভিযান, আঞ্চলিক পাল্টা আঘাত ইরানের
জুন যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনা, আকাশসীমা বন্ধ ও জরুরি অবস্থা জারি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করেছে, যদিও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একাধিক দফা পরোক্ষ আলোচনা চলছিল। হামলার পর ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেন, তাদের হামলা ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। ইসরায়েলসহ অঞ্চলের কয়েকটি দেশ আকাশসীমা বন্ধ করে জরুরি ব্যবস্থা নেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানি শাসনের হুমকি নির্মূল করতেই বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে।
নিচে সাম্প্রতিক সংঘাতে পৌঁছানোর ধারাবাহিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তুলে ধরা হলো:
১৩ জুন ২০২৫ – ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ইসরায়েলি শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
২২ জুন – যুক্তরাষ্ট্র নাতানজ, ফোর্দো ও ইসফাহানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ওয়াশিংটন দাবি করে, এতে ইরানের কর্মসূচি বড় ধাক্কা খায়, যদিও তেহরান বলে তা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি।
২৩ জুন – পাল্টা জবাবে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটির দিকে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। সেগুলো প্রতিহত করা হয় এবং হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
২৪ জুন – ১২ দিনের সংঘাত শেষে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ইরান জানায়, শতাধিক নাগরিক নিহত হয়েছে; ইসরায়েলও প্রাণহানির কথা জানায়।
২ জুলাই – ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিতের আইন স্বাক্ষর করেন। বিশেষ অনুমতি ছাড়া পরিদর্শকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
২২ জুলাই – ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, গুরুতর ক্ষতি হলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ত্যাগ করা হবে না।
২২ আগস্ট – ইরান যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুতে সম্মত হয়।
২৮ আগস্ট – ইউরোপের তিন দেশ জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রক্রিয়া সক্রিয় করে।
নভেম্বরের শুরু – ওমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানায়। একই সময়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি কূটনৈতিক সমাধান চান, তবে বিকল্প পথও খোলা রয়েছে।
ডিসেম্বরের শেষ – মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ শুরু হয়।
৮ জানুয়ারি ২০২৬ – সরকারবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়। কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয় এই অবরোধ।
ফেব্রুয়ারির শুরু – ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তী কয়েক দফায় আলোচনা এগোয়, যদিও গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়ে যায়।
২৭ ফেব্রুয়ারি – ওমান জানায়, ইরান তার পারমাণবিক উপাদানের মজুদ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, কূটনীতি পছন্দের পথ হলেও প্রয়োজনে অন্য বিকল্প থাকবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি – ইসরায়েল তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে সমন্বিত হামলা চালায়। ইরান পাল্টা উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
সব মিলিয়ে পরোক্ষ আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেও সামরিক উত্তেজনা থামেনি। সাম্প্রতিক হামলা জুনের যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিস্তৃত সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
















