উচ্চ সতর্কাবস্থায় দেশ, আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া এখন দৈনন্দিন অভ্যাস
রাজনৈতিক মহলে বিজয়ের সুর, দীর্ঘ যুদ্ধ নিয়ে শঙ্কাও রয়ে গেছে
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ হামলা শুরুর পর ইসরায়েলজুড়ে উচ্চ সতর্কাবস্থা জারি থাকলেও দেশটির ভেতরে এক ধরনের স্বাভাবিকতার চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই আগের মতো চলছে, যদিও মাঝেমধ্যে সাইরেন বেজে উঠলে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটতে হচ্ছে।
তেল আবিবের বাইরে থেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওরি গোল্ডবার্গ বলেন, ছুটির দিনের কারণে রাস্তাঘাট স্বাভাবিকভাবেই শান্ত। তবে রাজনৈতিকভাবে একটি বিজয়ের অনুভূতি কাজ করছে—এক শত্রু রাষ্ট্রে আঘাত হানার সন্তুষ্টি। তাঁর মতে, গাজায় দীর্ঘ সংঘাতের অভিজ্ঞতার পর ইসরায়েলি সমাজে যুদ্ধ ও সহিংসতা অনেকটাই দৈনন্দিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
ইসরায়েলের নেতৃত্ব বহু বছর ধরে ইরানকে প্রধান হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এমন এক অস্তিত্বগত হুমকি দূর করতে হামলা চালিয়েছে, যা ইরান সৃষ্টি করেছে বলে তাদের দাবি। তিনি ইরানের জনগণকে নিজ দেশের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বানও জানান।
ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল এবং অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোর দিকে। উত্তর ইসরায়েলে অন্তত একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তবে দেশটির রাজনৈতিক মহলে হামলাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ইসরায়েলি জনগণ ও সেনাবাহিনী শক্তিশালী এবং বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র তাদের পাশে রয়েছে। তিনি রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে একসঙ্গে থাকার আহ্বান জানান। পরবর্তী বার্তায় তিনি ইরানে অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের আরব বংশোদ্ভূত সংসদ সদস্য আইদা তৌমা-সুলেইমান বলেন, বারবার আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অভিজ্ঞতা এখন অনেকের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। তাঁর মতে, গণমাধ্যমে মানুষকে প্রস্তুত ও অভ্যস্ত হিসেবে তুলে ধরা হলেও বাস্তবে টানা যুদ্ধ পরিস্থিতি সমাজকে ক্লান্ত করে তুলেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য দেশ কতটা প্রস্তুত, তা স্পষ্ট নয়।
লন্ডনে অবস্থানরত সামরিক বিশ্লেষক আহরন ব্রেগম্যান বলেন, অনিশ্চয়তার অবসান হওয়ায় অনেকের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের নেতৃত্বকে দুর্বল করতে চায়। তবে কেবল আকাশপথে হামলা চালিয়ে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা কঠিন হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সংঘাত কতদিন চলবে, তা অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে। ইসরায়েলের ভেতরে কেউ কেউ মনে করছেন, দীর্ঘ যুদ্ধের ঝুঁকি নেওয়া রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের অংশ হতে পারে।
সব মিলিয়ে ইসরায়েলে এখন একদিকে সতর্কতা ও আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যাওয়ার প্রস্তুতি, অন্যদিকে রাজনৈতিক উচ্ছ্বাস—দুটি বাস্তবতাই পাশাপাশি বিদ্যমান। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আপাতত দেশটির জনজীবনে স্বাভাবিকতার আবরণ বজায় রয়েছে।
















