ভারতের বিহার রাজ্যে এক নারীকে নিজ বাড়িতে ঢুকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও নারী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই ঘটনা ২০১২ সালের দিল্লির বহুল আলোচিত ‘নির্ভয়া’ গণধর্ষণ মামলার বিভীষিকাময় স্মৃতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
২৮ বছর বয়সী চার সন্তানের জননী ওই নারী, যাকে প্রতিবেদনে ‘সোমা’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে, জানান, গত ১১ জুন রাতে বিহারের বেগুসরাই জেলার একটি গ্রামে তাঁর বাড়ির বাইরে থাকা টয়লেটে যাওয়ার সময় পাঁচজন ব্যক্তি তাঁকে আক্রমণ করে। অভিযুক্তরা তাঁকে বেঁধে, মুখ চেপে ধরে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার পর সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। পরে তাঁর শরীরে বিভিন্ন বস্তু প্রবেশ করানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁর শরীর থেকে একাধিক বস্তু অপসারণ করেন। এ ঘটনায় দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং তদন্তে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বেগুসরাইয়ের পুলিশ সুপার মনীশ জানান, মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও দুজন অজ্ঞাতপরিচয় আসামি রয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের ধরতে বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) অভিযান চালাচ্ছে। অভিযুক্তদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল।
তবে নির্যাতনের পর ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারকে পুলিশ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উদাসীনতার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, প্রথমে থানায় গেলে অভিযোগ নিতে গড়িমসি করা হয় এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রেও যথাযথ সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঘটনাটি ২০১২ সালে দিল্লিতে চলন্ত বাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়া এক তরুণীর ঘটনার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। সেই ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর ভারত ধর্ষণবিরোধী আইন কঠোর করে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করে। তবু দেশটিতে প্রতিবছর ৩০ হাজারের বেশি ধর্ষণের মামলা নথিভুক্ত হয়।
নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, আইন কঠোর হলেও অনেক এলাকায় এখনো বিচারহীনতা, সামাজিক নীরবতা এবং প্রশাসনিক উদাসীনতা যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। তাদের মতে, বিহারের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল যে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন নয়, কার্যকর বাস্তবায়নও জরুরি।
















