কাতার থেকে এলএনজি আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা; বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ইরান যদি ‘চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তবে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে জ্বালানি তেলের দাম যেমন বাড়বে, তেমনি কাতার থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎসের কথা চিন্তা করলেও এলএনজি পরিবহনে হরমুজ প্রণালি ছাড়া অন্য কোনো নৌপথ না থাকায় সংকট গভীর হতে পারে।
১. এলএনজি আমদানিতে বড় বিপর্যয়: বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় এলএনজির সিংহভাগ আমদানি করে কাতার থেকে। ২০১৭ ও ২০২৩ সালের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ গ্যাস কাতার থেকে আসে।
- পরিবহন সংকট: এলএনজি কার্গো কাতার থেকে আনার একমাত্র পথ হলো হরমুজ প্রণালি। এটি বন্ধ হলে অন্য কোনো নৌপথ বা স্থলপথে এলএনজি আনা সম্ভব নয়। ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় চরম গ্যাস সংকট দেখা দিতে পারে।
২. জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ ঝুঁকি: বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পরিশোধিত তেলের ২০% এবং অপরিশোধিত তেলের ৩০% এই প্রণালি দিয়ে আসে।
- ক্রয়মূল্য বৃদ্ধি: বিপিসির পরিচালক ড. এ কে এম আজাদুর রহমান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম বাড়বে।
- বিকল্প উৎস: অপরিশোধিত তেল মূলত সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে আসে। এই পথ বন্ধ হলে বিপিসিকে বেসরকারি প্ল্যান্টগুলোর ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যারা অন্যান্য অঞ্চল থেকে তেল সংগ্রহ করে।
৩. হরমুজ প্রণালির বৈশ্বিক গুরুত্ব: প্রতিদিন প্রায় ২১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়, যা বিশ্ব সমুদ্রপথে তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০%। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক এবং ইরানের মতো প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলো এই পথের ওপর নির্ভরশীল। কাতার তার প্রায় ১০০% এলএনজি এই সরু জলপথ দিয়ে রপ্তানি করে।
৪. ইরানের ‘চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া’: বিশ্লেষক সিনা তুসির মতে, ইসরায়েল যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় হামলা চালায়, তবে ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও এই বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনার কথা জানিয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরবরাহ বন্ধ হলে তেলের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে।
৫. বাংলাদেশের প্রস্তুতি: বিপিসি এবং পেট্রোবাংলা বর্তমান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জ্বালানি তেল আমদানিতে বিকল্প দেশের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি থাকলেও এলএনজি আমদানিতে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাতার ছাড়া বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
















