যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের পরই পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। মঙ্গলবার শুরু হওয়া এ সফরকে কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং আঞ্চলিক রাজনৈতিক বার্তা ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রথম দফা শেষে ৬০ দিনের একটি রোডম্যাপ ঘোষণার পরদিনই ইসলামাবাদে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নেন পেজেশকিয়ান। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিল পাকিস্তান ও কাতার। ফলে সফরটি পাকিস্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমন্বয়কে আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত বহন করছে।
সফরকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারসহ শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা, বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের জন্য এই সফরের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতাকে দেশের ভেতরে ‘আত্মসমর্পণ’ নয়, বরং আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতায় সার্বভৌম অবস্থান থেকে পরিচালিত কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চান তিনি।
এদিকে পাকিস্তানের জন্যও সফরটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে ইসলামাবাদ শুধু মধ্যস্থতাকারী নয়, বরং আঞ্চলিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করতে পারছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
















