আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে ৪০ দিনের শোক পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, হামলায় খামেনেই তাঁর কার্যালয়ে নিহত হন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা তাঁর মৃত্যুর দাবি করেছিলেন। শুরুতে ইরানের কয়েকটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছিল, তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন; তবে পরে সরকারিভাবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বার্তায় বলেন, যৌথ হামলায় খামেনেই নিহত হয়েছেন এবং এটি ইরানের জনগণের জন্য বড় পরিবর্তনের সুযোগ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–ও আগে দাবি করেছিলেন, তাঁর কাছে “বর্ধিত ইঙ্গিত” রয়েছে যে খামেনেই আর জীবিত নন।
ক্ষমতার অনিশ্চয়তা
১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন খামেনেই। তাঁর হাতে ছিল সরকার, সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগের চূড়ান্ত ক্ষমতা। তাঁর মৃত্যুর ফলে চলমান সংঘাতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠন করা হতে পারে। ইরানের সংবিধানে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলা ও পাল্টা হামলা
শনিবার শুরু হওয়া হামলায় ইরানের ২৪টি প্রদেশ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ইরানি সূত্র জানায়, অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল দাবি করেছে, বিপ্লবী গার্ড ও পারমাণবিক কর্মসূচির একাধিক জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে “নিষ্ক্রিয়” করা হয়েছে।
পাল্টা হামলায় ইরান বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে আঘাত হানে। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে বিমানঘাঁটির কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ–এর মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সামরিক পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে পরিস্থিতি ঠেলে দিতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রদূত হামলাকে “উসকানিমূলক আগ্রাসন” ও “যুদ্ধাপরাধ” বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দাবি করেন, এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।
চীন ও রাশিয়াও পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
খামেনেইর মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পরবর্তী দিনগুলোতে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক রূপান্তর ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
















