বাংলাদেশ প্রথাগত হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসা পদ্ধতির পরিবর্তে রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং নিরবচ্ছিন্ন সেবাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো পুনর্গঠন করছে বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘প্রতিশ্রুতি থেকে পদক্ষেপ: প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু বন্ধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীবিদ্যাকে একীভূতকরণ’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
ডা. জুবাইদা রহমান উল্লেখ করেন, দেশের সুস্থ সমাজ গড়ার রূপরেখা অর্জনে গ্রাম থেকে শহরের ওয়ার্ড পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এই রূপান্তরের কেন্দ্রে নারীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যেখানে ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মী এবং পেশাদার ধাত্রীরা মূখ্য ভূমিকায় থাকবেন।
মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে দেশে ইতোমধ্যে ২৫ হাজার পেশাদার ধাত্রী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য কেবল ধাত্রীর সংখ্যা বাড়ানো নয়; বরং তাঁদের বহুমাত্রিক চিকিৎসাদলের সঙ্গে একীভূত করা। এর মাধ্যমে প্রসূতিদের গর্ভধারণপূর্ব সময় থেকে শুরু করে গর্ভাবস্থা, সন্তান প্রসব এবং প্রসব-পরবর্তী সময়ে নিরবচ্ছিন্ন সেবা সুনিশ্চিত করা হবে।
মিডওয়াইফ-নেতৃত্বাধীন এই স্বাস্থ্যসেবা মডেলের মাধ্যমে উন্নত স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি জনগণের নিজস্ব পকেটের চিকিৎসাব্যয় হ্রাস পাবে এবং সঠিক সময়ে মর্যাদাপূর্ণ সেবা নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সুইডেন সরকার ও জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) যৌথ অংশীদারিত্বে আয়োজিত এ সেশনে সিয়েরা লিওন, নেপাল, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।






















