মিয়ানমার জান্তা সরকার রাখাইন অঙ্গরাজ্যের মুনাউং দ্বীপের উপকূলে অন্তত ২০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী নতুন সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, একইসঙ্গে দ্বীপ ও আশপাশের এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাও জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মুনাউং ও রামরী দ্বীপের আশপাশে জান্তার নৌবাহিনীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এক স্থানীয় সূত্র মিজিমাকে বলেন, “যুদ্ধজাহাজগুলো কিয়াউকফিউ নৌঘাঁটি থেকে এসেছে কি না তা স্পষ্ট নয়, তবে তিন দিন আগে আরও কিছু জাহাজ পৌঁছেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা মুনাউং ও রামরী থেকে সমুদ্রপথে অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে তারা ভোটার শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং শহর ও গ্রামে মোবাইল সংযোগ পুনরায় চালু করছে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, জান্তা বাহিনী টাউনগুপ ও থানডওয়ে অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে পারে, যেখানে আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
মুনাউং দ্বীপের বাসিন্দারা মূলত মাছধরা ও নৌপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু জান্তার আরোপিত চলাচল ও মাছধরার নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
১৫ অক্টোবর থেকে জান্তা-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি এর সদস্যরা বিভিন্ন গ্রাম ও ওয়ার্ডে গিয়ে নির্বাচনী নির্দেশনা দিচ্ছে। পাশাপাশি উ বা শেইনের নেতৃত্বাধীন রাখাইন ন্যাশনালিটিস পার্টি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটার শিক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
অক্টোবরের শুরুতে জান্তা সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী মুনাউং টাউনশিপ সফর করে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। ১০ অক্টোবর মিয়ানমার পোস্টস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনস নেটওয়ার্ক আংশিকভাবে চালু হয়, তবে স্থানীয়রা মনে করছেন এটি নির্বাচনী কৌশল মাত্র।
এক বাসিন্দা বলেন, “তারা বলছে জনগণের সুবিধার্থে নেটওয়ার্ক চালু করেছে, কিন্তু আসলে এটি নির্বাচনের জন্যই। শুধু নেটওয়ার্ক কাজ করছে, অনেক জায়গায় এখনও সিগন্যাল নেই। যাদের এমপিটি সিম ছিল না, তারা তাড়াহুড়ো করে ৫০ থেকে ৬০ হাজার কিয়াত দামে সিম কিনেছে। সবাই পায়নি, দামও অনেক বেশি। নির্বাচন শেষে তারা আবার নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিতে পারে।”
এর আগে ওই এলাকায় শুধুমাত্র জান্তা-সম্পর্কিত টেলিকম কোম্পানির সিমকার্ডই পাওয়া যেত।
যদিও মুনাউং টাউনশিপে এখনো সরাসরি সংঘর্ষ হয়নি, তবে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে এলাকাটি সামরিক অবরোধের মধ্যে রয়েছে। রাখাইন রাজ্যে সংঘর্ষ পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকেই আরাকান আর্মি জান্তা নিয়ন্ত্রিত কিয়াউকফিউ, সিত্তে ও মুনাউং শহরগুলোর দখল নিতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
















