লকডাউনের সময় ছেলে যখন আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন আনতে শুরু করল, তখন কেলি মেদিনা এনোস নিজেকে অসহায় মনে করতেন। ছেলে তাকে মারত, হঠাৎ রাগের বিস্ফোরণ ঘটাত। ঠিক তখনই সামাজিক মাধ্যমে তিনি ‘জেন্টল প্যারেন্টিং’ ধারণার সঙ্গে পরিচিত হন।
প্রচলিত পদ্ধতিতে যেখানে নিয়ম না মানলে শিশুকে শাস্তি দেওয়া হয়, সেখানে জেন্টল প্যারেন্টিংয়ে সীমারেখা বজায় রেখেও আবেগগত উষ্ণতার ওপর জোর দেওয়া হয়। “না”, “থামো”, “করবে না” বলার বদলে কী করতে হবে সেটি ইতিবাচকভাবে বলা হয়—যেমন “মেঝেতে পা রাখো” বলা, “ওঠো না” বলার পরিবর্তে।
অভিভাবকত্ব নিয়ে লেখালেখি করা সারা অকওয়েল-স্মিথের ভাষায়, এটি শিশুদের প্রতি সম্মান ও সদয় আচরণের চর্চা। এর মানে এই নয় যে শিশুকে সবকিছু করতে দেওয়া হবে, বরং শাস্তির মাধ্যমে তাকে অতিরিক্ত অপরাধবোধে না ফেলে সীমা শেখানো।
কেলি বলেন, শুরুতে বিষয়টি সহজ মনে হলেও বাস্তবে তা ছিল ক্লান্তিকর। প্রতিটি শব্দ ভেবে বলতে হতো, ভুল হচ্ছে কি না তা নিয়ে সংশয় থাকত। তবু তিনি বিশ্বাস করেন, সন্তানের সঙ্গে ইতিবাচক ভাষায় কথা বলা আচরণে পরিবর্তন আনে। তিনি ছোট ছেলেকে “নরম হাত” ব্যবহার শেখান—অর্থাৎ শারীরিক আচরণে সচেতনতা।
তবে তিনি স্বীকার করেন, সব সময় ধৈর্য ধরে থাকা সম্ভব হয় না। কখনো কখনো চিৎকারও করে ফেলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঝেমধ্যে রাগ দেখানো আর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক নির্যাতনের মধ্যে পার্থক্য আছে। নিয়মিত কঠোর ও অপমানজনক আচরণই আসল সমস্যা।
শিশু মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী নিনা লিয়ন মনে করেন, সামাজিক মাধ্যমে জেন্টল প্যারেন্টিং নিয়ে অতিরঞ্জন রয়েছে। “কখনো ‘না’ বলা যাবে না” বা “সব সময় নিখুঁত হতে হবে”—এমন চাপ অভিভাবকদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তার মতে, উষ্ণতা ও যুক্তিসঙ্গত সীমারেখা থাকলেই পদ্ধতির নাম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
সমালোচনা সত্ত্বেও কেলির বিশ্বাস, এই পদ্ধতি তার সন্তানদের আচরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একবার বড় ছেলে আবেগতাড়িত হলে ছোট ভাই তাকে জায়গা দিয়ে পরে জিজ্ঞেস করেছিল, “তুমি ঠিক আছো?”—এবং তাকে জড়িয়ে ধরেছিল।
সারা অকওয়েল-স্মিথের মতে, সম্মানজনক ও শান্ত সন্তান গড়তে চাইলে প্রথমে সেই আচরণ নিজেকেই প্রদর্শন করতে হবে। জেন্টল প্যারেন্টিংয়ের মূল দর্শনও সেখানেই—শিশুকে যেমন মানুষ হিসেবে দেখতে চাই, তেমন আচরণই তার সঙ্গে করা।
















