লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা শিশু ও কিশোরদের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর করা সরকারি পর্যালোচনার লেখক ডা. হিলারি ক্যাস বলেছেন, ট্রান্স অধিকার নিয়ে তীব্র ও বিষাক্ত বিতর্কে উভয় পক্ষই শিশুদের “অস্ত্র” হিসেবে ব্যবহার করেছে।
রবিবার সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চরমপন্থী অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিরা তরুণদের জন্য “উদ্বেগজনক ও ভীতিকর” পরিবেশ তৈরি করেছেন। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবাস্তব প্রত্যাশা ও চিত্র অনেক শিশুকে বিভ্রান্ত করেছে। কিছু তরুণ যদি আরও সময় নিত, তাহলে হয়তো তারা চিকিৎসা পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হতো না।
২০২৪ সালে প্রকাশিত তার পর্যালোচনায় বলা হয়, লিঙ্গ-সংক্রান্ত চিকিৎসা “দুর্বল প্রমাণের ভিত্তির ওপর” পরিচালিত হচ্ছিল। ডা. ক্যাস বলেন, রূপান্তর প্রক্রিয়া আসলে কতটা কঠিন এবং এতে কতটা গভীর চিকিৎসা ও কখনও কখনও জটিল অস্ত্রোপচার জড়িত—সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত ধারণার অভাব ছিল।
তিনি স্বীকার করেন, খুব অল্পসংখ্যক মানুষ আছেন যারা কখনও নিজেদের জৈবিক লিঙ্গ নিয়ে স্বস্তি বোধ করবেন না। তাদের জন্য চিকিৎসা-ভিত্তিক পথই একমাত্র উপায় হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, অনেক শিশুই কয়েক বছর লিঙ্গ-সংক্রান্ত প্রশ্নের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই সেই অনুভূতি থেকে সরে আসে।
ডা. ক্যাস জানান, তার পর্যালোচনা শুরুর আগে বছরে প্রায় ৫০ জন শিশু এ ধরনের চিকিৎসা পেত, যা পরে বেড়ে বছরে ৩,৫০০ জনে পৌঁছায়। তবে যারা চিকিৎসা-পথে এগোয়নি, তাদের দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি।
তিনি বলেন, শিশুদের প্রাপ্তবয়স্কদের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে, যেখানে একক-লিঙ্গভিত্তিক স্থান, খেলাধুলা বা নারীদের নিরাপদ ক্ষেত্রের মতো বিষয়গুলো শিশুদের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। এতে শিশুদের ক্ষতি হয়েছে।
ডা. ক্যাস আরও বলেন, অল্পবয়সে সামাজিক রূপান্তর শুরু করলে কিছু শিশু এমন এক পথে আটকে যেতে পারে, যা হয়তো তাদের স্বাভাবিক বিকাশের সঠিক গতিপথ ছিল না। তাই সতর্কতা জরুরি।
তিনি বিতর্কিত বয়ঃসন্ধি-নিরোধক ওষুধ নিয়ে প্রস্তাবিত ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার পক্ষে মত দেন। তার ভাষায়, যথাযথ গবেষণা না হলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অনলাইনে ওষুধ সরবরাহের ঝুঁকি বাড়বে। তবে মানবাধিকারকর্মীদের একাংশ এই পরীক্ষার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ডা. ক্যাস দাবি করেন, তার সুপারিশের ফলে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। নতুন কেন্দ্রগুলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা নিশ্চিত করবে। তবে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জমে থাকা বিপুল সংখ্যক রোগীর অপেক্ষমান তালিকা।
















