যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে টেস্টোস্টেরন হরমোনের ব্যবহার। কেউ বলছেন এটি জীবন বদলে দিয়েছে, আবার কেউ সতর্ক করছেন—এটি সব সমস্যার সমাধান নয়, বরং বাড়তি প্রচারণা ও ব্যবসার ফল।
পঞ্চাশোর্ধ্ব অ্যালান রিভস এক সময় জনপ্রিয় মঞ্চশিল্পী ছিলেন। তিরিশের কোঠায় পৌঁছে তিনি লক্ষ্য করেন তার মেজাজ খারাপ থাকছে এবং যৌন আগ্রহ প্রায় হারিয়ে গেছে। দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। পরে তিনি টেস্টোস্টেরন প্রতিস্থাপন চিকিৎসা শুরু করেন এবং দাবি করেন, এতে তার শক্তি ও যৌন আগ্রহ ফিরে এসেছে।
শুধু পুরুষ নয়, নারীরাও এখন এই হরমোনের দিকে ঝুঁকছেন। রেচেল ম্যাসন নামের এক নারী জানান, টেস্টোস্টেরন তার শক্তি, মনোযোগ ও যৌন আগ্রহ বাড়িয়েছে। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে টেস্টোস্টেরন প্রেসক্রিপশন ১৩৫ শতাংশ বেড়েছে।
জাতীয় যৌন আচরণ ও জীবনধারা জরিপের তথ্য বলছে, গত তিন দশকে যৌন সম্পর্কের হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ১৯৯০ সালে ১৬ থেকে ৪৪ বছর বয়সীরা মাসে গড়ে পাঁচবার যৌন সম্পর্কের কথা জানালেও ২০১০ সালে তা নেমে আসে তিনবারে। গবেষকেরা বলছেন, এর পেছনে একক কোনো কারণ নেই। প্রযুক্তিনির্ভর জীবন, মানসিক চাপ, হতাশা ও একাকিত্ব বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের টেস্টোস্টেরন মাত্রা সত্যিই কিছুটা কমেছে। স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও কম সক্রিয় জীবনযাপন এর কারণ হতে পারে। তবে কম টেস্টোস্টেরন মানেই যে যৌন আগ্রহ কমে যাবে, এমন সরল সমীকরণ ঠিক নয়।
মেলিসা গ্রিন নামের এক নারী জানান, মেনোপজের সময় তার যৌন আগ্রহ কমে গিয়েছিল। পরে ব্যক্তিগত ক্লিনিকে পরীক্ষা করে টেস্টোস্টেরন নেন এবং বলেন এতে তার দাম্পত্য জীবন রক্ষা পেয়েছে। তবে আরেক নারী শেরিল ও’ম্যালি বলেন, তার ক্ষেত্রে হরমোনটি অতিরিক্ত যৌন উত্তেজনা ও তীব্র রাগের অনুভূতি তৈরি করেছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসা বন্ধ করেন।
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। নারীদের ক্ষেত্রে বাড়তি লোম, ব্রণ ও ওজন বৃদ্ধি হতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে ওজন বাড়া, মেজাজের ওঠানামা ও প্রজননক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি থাকে। তাই বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়া চিকিৎসা নেওয়া উচিত নয়।
কিছু সরকারি চিকিৎসক অভিযোগ করছেন, ব্যক্তিগত ক্লিনিকগুলো দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাভ করছে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারি ব্যবস্থায় যথেষ্ট সেবা না থাকায় তারা সেই শূন্যতা পূরণ করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌন আগ্রহ কমে যাওয়ার পেছনে সম্পর্কের টানাপোড়েন, আত্মবিশ্বাসের অভাব বা মানসিক চাপের মতো নানা কারণ থাকতে পারে। তাই শুধু হরমোনই সমাধান নয়। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, মানসিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যালান রিভস নিজেও বলেন, টেস্টোস্টেরন কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। সঠিক জীবনধারা ছাড়া এর পূর্ণ সুফল পাওয়া যায় না। তার কথায়, শক্তিশালী ইঞ্জিন বসালেই গাড়ি ভালো চলবে না, যদি গাড়িটাই ঠিকঠাক না থাকে।
















