১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ ওয়েলস উপকূলে তেলবাহী জাহাজ সি এমপ্রেস পাথরে আটকে গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই অঞ্চলের বহু পরিচিত সৈকত কালো তেলে ঢেকে যায়। প্রায় ৭০ হাজার টনের বেশি অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে, যা প্রায় ২০০ কিলোমিটার উপকূলকে দূষিত করে।
মিলফোর্ড হ্যাভেন বন্দরের প্রবেশমুখে ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যে জাহাজটি আটকে যায়। উদ্ধারকর্মীরা প্রায় ছয় দিন চেষ্টা চালিয়ে সেটিকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হন। এর মধ্যেই তেলের বিশাল স্তর ছড়িয়ে পড়ে সমুদ্রে ও তীরে।
সাবেক সংবাদকর্মী হেফিন উইন স্মরণ করেন, সমুদ্রের ওপর ঘন, আঠালো তেলের স্তর আর পানিতে নামা পাখিদের উড়তে না পারার দৃশ্য ছিল হৃদয়বিদারক। তার ভাষায়, ঘটনাটি ছিল পরিবেশ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতার বড় এক মোড়।
পরিবেশবাদী ও উপস্থাপক Iolo Williams বলেন, এটি ছিল তার দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়। প্রায় সাত হাজার তেলমাখা পাখি উদ্ধার করা হলেও এর অন্তত দ্বিগুণ পাখি মারা গেছে বলে ধারণা করা হয়। শিলাখণ্ডের ফাঁকে থাকা সামুদ্রিক প্রাণীও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাছধরা শিল্প প্রায় দেড় বছর স্থবির হয়ে পড়ে।
ঘটনাটি ঘটে যুক্তরাজ্যের একমাত্র উপকূলীয় জাতীয় উদ্যানে, যেখানে রয়েছে বহু বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত এলাকা ও বিরল সামুদ্রিক পাখির আবাস।
পরবর্তীতে মিলফোর্ড হ্যাভেন বন্দর কর্তৃপক্ষকে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়। সমালোচকদের দাবি ছিল, নিরাপত্তা ঘাটতি ও সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে তৎকালীন সামুদ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জো স্মল বলেন, জাহাজের ভেতরে তেল অস্বাভাবিকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, যা উদ্ধারকাজকে জটিল করে তোলে।
এই বিপর্যয়ের পর যুক্তরাজ্যে সামুদ্রিক দুর্ঘটনা মোকাবিলা ও প্রস্তুতিতে বড় পরিবর্তন আসে। আন্তর্জাতিকভাবে দ্বৈত আবরণযুক্ত তেলবাহী জাহাজ, জরুরি টানার ব্যবস্থা এবং পরিবেশ ক্ষতিপূরণ কাঠামো জোরদার হয়।
তবু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘন ঘন ও তীব্র ঝড়, ব্যস্ত সমুদ্রপথ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহন বৃদ্ধি ভবিষ্যতে বড় দূষণ ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তৎকালীন স্থানীয় সাংসদ নিক আইঙ্গার বলেন, মানুষ প্রথমবার বুঝতে পেরেছিল—তেলের প্রকৃত মূল্য কেবল অর্থ নয়, পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি। তিন দশক পরও এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, সামান্য অসতর্কতাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যকে গভীরভাবে আঘাত করতে পারে।















